আমির খানের ঘি খাওয়ার অভ্যাস কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?

৬১ বছর বয়সেও নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। শরীরচর্চার পাশাপাশি তার খাদ্যাভ্যাস নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। সম্প্রতি সকালে এক টেবিলচামচ ঘি খাওয়ার অভ্যাসের কথা জানিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেতা। তবে আমিরের এই অভ্যাস শুনে সবারই প্রতিদিন ঘি খাওয়া শুরু করা উচিত কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।
আমির খান জানিয়েছেন, ঘি তার পছন্দের খাবার এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি এক টেবিলচামচ ঘি খান। তবে একজন তারকার ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস সবার জন্য সমানভাবে উপকারী হবে—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ঘি মূলত দুধ থেকে তৈরি এক ধরনের চর্বি। এতে ফ্যাট ও ক্যালোরি রয়েছে। পাশাপাশি এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে মোট ফ্যাটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে অসম্পৃক্ত ফ্যাট গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
খালি পেটে ঘি খেলেই কি ওজন কমে?
সকালে খালি পেটে এক চামচ ঘি খেলেই ওজন কমবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ঘি ক্যালোরি-সমৃদ্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে দৈনিক মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ঘির ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মোট ক্যালোরি গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘি কি ত্বকের বয়সের ছাপ কমায়?
ঘিতে কিছু ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন ও উপকারী উপাদান থাকলেও শুধু ঘি খেলে ত্বকের বলিরেখা কমবে বা বয়সের ছাপ আটকে যাবে—এমন প্রমাণ নেই।
ত্বকের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, শাকসবজি ও ফল খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা বেশি কার্যকর অভ্যাস।
তাহলে ঘি কি খাওয়া যাবে?
ঘি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে এটি খাবারের অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে। ভাত, ডাল, রুটি বা রান্নায় অল্প পরিমাণ ঘি ব্যবহার করা যায়। তবে একই সঙ্গে ঘি, মাখন, চর্বিযুক্ত মাংসসহ একাধিক স্যাচুরেটেড ফ্যাটের উৎস বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো।
বাংলাদেশের জাতীয় খাদ্য নির্দেশিকাতেও ঘি ও মাখনের মতো স্যাচুরেটেড ফ্যাট সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনিক মোট শক্তির ১০ শতাংশের বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে না নেওয়াই ভালো।
কারা ঘি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?
যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন আছে কিংবা চিকিৎসক স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমাতে বলেছেন, তাদের নিয়মিত ঘি খাওয়ার অভ্যাস করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাকৃতিক খাবার মানেই যে তা ইচ্ছেমতো খাওয়া নিরাপদ—এমন ধারণাও ঠিক নয়। যেকোনো খাবারের ক্ষেত্রেই পরিমাণ ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
আমির খানের ফিটনেস থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া যেতেই পারে। তবে তার ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসকে ফিট থাকার বা তারুণ্য ধরে রাখার নির্দিষ্ট ফর্মুলা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ঘি পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।