বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • একটি নিরাপদ আশ্রয়ই বদলে দিতে পারে গৃহহীন প্রাণীর জীবন

    একটি নিরাপদ আশ্রয়ই বদলে দিতে পারে গৃহহীন প্রাণীর জীবন
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    প্রতিদিন অসংখ্য কুকুর, বিড়ালসহ নানা প্রাণী পরিত্যক্ত হয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তাদের জীবন হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। এসব প্রাণীর সুরক্ষা ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রাণী উদ্ধার ও আশ্রয়কেন্দ্র। তবে সীমিত অর্থ, জনবল ও অবকাঠামোর কারণে অনেক সময় তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

    গৃহহীন প্রাণীদের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর পালিত হয় আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণী দিবস। দিবসটির মূল লক্ষ্য পরিত্যক্ত প্রাণীদের দুর্দশা তুলে ধরা, দায়িত্বশীলভাবে পোষা প্রাণী পালনে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রাণী দত্তক ও বন্ধ্যাকরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।

    কীভাবে শুরু হলো আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণী দিবস

    ১৯৯২ সালে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যানিম্যাল রাইটস (আইএসএআর) দিবসটির সূচনা করে। রাস্তায় থাকা অসহায় প্রাণীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    বিশেষ করে গৃহপালিত কুকুর ও বিড়াল মানুষের ওপর খাবার ও আশ্রয়ের জন্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে মালিকের কাছ থেকে পরিত্যক্ত হওয়ার পর তাদের অনেককেই রাস্তায় অনিশ্চিত জীবন কাটাতে হয়। প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়তা সংগ্রহও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

    আশ্রয়কেন্দ্রে বাড়ছে প্রাণীর চাপ

    গৃহহীন প্রাণীদের আশ্রয় দিতে বিভিন্ন সংগঠন ও কেন্দ্র কাজ করলেও তাদের সক্ষমতা সীমিত। পর্যাপ্ত জায়গা, অর্থ ও কর্মীর অভাবে অনেক আশ্রয়কেন্দ্র ধারণক্ষমতার বেশি প্রাণী নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হয়।

    অতিরিক্ত প্রাণীর চাপের কারণে নতুন প্রাণীদের আশ্রয় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তাদের জন্য স্থায়ী পরিবার খুঁজে পাওয়াও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

    পরিত্যক্ত প্রাণীর সংখ্যা কমাতে তাই শুধু আশ্রয়কেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে দায়িত্বশীল পোষা প্রাণী পালন, দত্তক গ্রহণ এবং বন্ধ্যাকরণকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

    প্রাণী দত্তক নেওয়া হতে পারে বড় উদ্যোগ

    পরিবারে নতুন পোষা প্রাণী নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ব্রিডারের কাছ থেকে কেনার পরিবর্তে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে একটি প্রাণী দত্তক নেওয়া যেতে পারে। এতে একটি অসহায় প্রাণী যেমন নিরাপদ ঘর পাবে, তেমনি আশ্রয়কেন্দ্রেও অন্য একটি প্রাণীর জন্য জায়গা তৈরি হবে।

    তবে দত্তক নেওয়ার আগে প্রাণীটির খাবার, চিকিৎসা, পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি।

    সচেতনতা বাড়ানো জরুরি

    গৃহহীন প্রাণীদের দুর্দশা সম্পর্কে পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের সচেতন করা যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণী দত্তক, উদ্ধার, চিকিৎসা ও দায়িত্বশীল পোষা প্রাণী পালনের বিষয়ে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

    অনিয়ন্ত্রিত প্রজননও গৃহহীন প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পোষা প্রাণীর বন্ধ্যাকরণ করানো হলে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রজনন কমানো সম্ভব।

    সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা

    সব মানুষের পক্ষে একটি প্রাণী দত্তক নেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাই বলে গৃহহীন প্রাণীদের জন্য কিছুই করার নেই—এমন নয়। স্থানীয় প্রাণী উদ্ধার ও আশ্রয়কেন্দ্রে অর্থ, খাবার, ওষুধ কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা যায়।

    অনুদানের অর্থ সাধারণত প্রাণীদের খাবার, চিকিৎসা, টিকা, বন্ধ্যাকরণ ও জরুরি পরিচর্যায় ব্যবহার করা হয়। কেউ চাইলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

    একটি প্রাণীর জীবন বদলাতে পারে আপনার উদ্যোগ

    আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণী দিবস শুধু একটি প্রতীকী দিবস নয়; এটি মানুষকে প্রাণীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেয়। একটি প্রাণীকে দত্তক নেওয়া, আহত প্রাণীকে চিকিৎসা দেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রে সহায়তা করা কিংবা অন্যদের সচেতন করা—প্রতিটি উদ্যোগই গুরুত্বপূর্ণ।

    একটি নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাবার আর সামান্য ভালোবাসাই হয়তো কোনো পরিত্যক্ত প্রাণীর জীবন বদলে দিতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন