ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে সহজ যত্ন

মুখের ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়মিত সময় দিলেও হাতের যত্নে তেমন গুরুত্ব দেন না। অথচ রোদ, পানি, সাবান, স্যানিটাইজার ও ডিটারজেন্টের কারণে হাতের ত্বক প্রতিদিনই ক্ষতির মুখে পড়ে। সময়ের সঙ্গে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিতে পারে কালচে দাগ, পিগমেন্টেশন ও সূক্ষ্ম রেখা। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস মেনে চললে হাতের ত্বক নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
হাতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুধু মুখের নয়, হাতের ত্বকেরও ক্ষতি করে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে হাতের পিঠে কালচে দাগ ও বয়সের ছাপ স্পষ্ট হতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে হাতের খোলা অংশে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।
হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার
বারবার হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এতে হাত রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। তাই হাত ধোয়ার পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস করুন। গ্লিসারিন, সেরামাইড বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
মৃদু সাবান ব্যবহার করুন
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য হাত ধোয়া জরুরি। তবে অতিরিক্ত কড়া সাবান ব্যবহারে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ত্বকে শুষ্কতা, জ্বালা ও টানটান ভাব দেখা দিতে পারে। তাই সম্ভব হলে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন। একই সঙ্গে খুব গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস পরিহার করা ভালো।
রাতে বাড়তি যত্ন
দিনভর নানা কাজের কারণে হাতের ত্বকে চাপ পড়ে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে ঘন ময়েশ্চারাইজার বা হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে আঙুলের গাঁট, নখের চারপাশ ও হাতের পিঠে ভালোভাবে ক্রিম লাগানো উচিত। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক হলে ক্রিম ব্যবহারের পর সুতির গ্লাভস পরে ঘুমানো যেতে পারে।
দাগ ও সূক্ষ্ম রেখায় সচেতন থাকুন
হাতের ত্বকে বয়সের ছাপ, অসম রং বা পিগমেন্টেশন দেখা দিলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন সি, পেপটাইড বা রেটিনয়েডযুক্ত পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন বিশেষজ্ঞ। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো।
ডিটারজেন্ট থেকে হাত সুরক্ষিত রাখুন
বাসন ধোয়া, কাপড় পরিষ্কার বা ঘরের বিভিন্ন কাজের সময় ডিটারজেন্ট ও রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি হাতের সংস্পর্শে আসে। এতে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হতে পারে। তাই এসব কাজের সময় উপযুক্ত গ্লাভস ব্যবহার করুন। কাজ শেষে হাত পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
ঘন ঘন স্ক্রাব নয়
হাতের ত্বক মসৃণ করতে অতিরিক্ত স্ক্রাব করার প্রয়োজন নেই। বেশি ঘষাঘষি করলে ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ত্বক শুষ্ক, সংবেদনশীল বা ফাটার প্রবণ হলে শক্ত স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন হলে মৃদু এক্সফোলিয়েশনের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
হাতের ত্বক ভালো রাখার মূল কথা
হাতের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবসময় দামি প্রসাধনী প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার লাগানো, মৃদু সাবান ব্যবহার এবং ডিটারজেন্ট থেকে হাত সুরক্ষিত রাখার মতো সহজ অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: ভোগ, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথ লাইন