হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৭ অভ্যাস, আজই বদলান জীবনযাপন

ধূমপান, স্থূলতা কিংবা উচ্চ কোলেস্টেরলকে হৃদরোগের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হলেও, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসও হৃদপিণ্ডের জন্য সমান ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
১. দীর্ঘ সময় বসে থাকা
অফিসে ডেস্কে কাজ, দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানো বা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকার কারণে শরীরের নড়াচড়া কমে যায়। এতে রক্তসঞ্চালন ধীর হয়, ক্যালোরি কম খরচ হয় এবং স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর কয়েক মিনিট হাঁটা বা শরীর নড়াচড়া করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
২. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
প্রতিদিন সাত ঘণ্টার কম ঘুম হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কম ঘুম রক্তচাপ ও প্রদাহ বাড়াতে পারে, পাশাপাশি রক্তে শর্করার ভারসাম্যও নষ্ট করতে পারে। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
প্যাকেটজাত খাবার, সস, আচার ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে লুকানো সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে রক্তচাপ বাড়ে এবং হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে লেবুর রস, ভেষজ বা প্রাকৃতিক মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. মানসিক চাপকে গুরুত্ব না দেওয়া
কর্মব্যস্ততা, আর্থিক চাপ কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। এতে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়তে পারে। নিয়মিত হাঁটা, ধ্যান, যোগব্যায়াম, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
৫. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পান করা
সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, মিষ্টি ফলের রস বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো চা-কফি শরীরে অতিরিক্ত চিনি যোগ করে। নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এর পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।
৬. নিয়মিত ব্যায়াম না করা
সুস্থ হৃদপিণ্ডের জন্য প্রতিদিন শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা জরুরি। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা নাচ হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা
উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এসব সমস্যা আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই কয়েকটি সহজ অভ্যাস হৃদপিণ্ডকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।