বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • মোদী সরকারের সামনে নতুন সংকট, প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব

    মোদী সরকারের সামনে নতুন সংকট, প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভারতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শিক্ষার্থী আন্দোলন নতুন করে রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। বিরোধী দল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সংকট সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনআস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর থেকেই মোদী সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছিল। যদিও পরবর্তী কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনে দলটি ভালো ফল করে সেই ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক শিক্ষা খাতের বিতর্ক নতুন করে কেন্দ্রীয় সরকারকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে।

    প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। বিরোধীদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহির অভাবই এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।

    সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় পরীক্ষা সংস্থায় প্রশাসনিক পরিবর্তন, কয়েকজন কর্মকর্তাকে অপসারণ, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালতের উদ্যোগসহ একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।

    তবে সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংকটের মূল কারণ দূর করতে এখনো কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

    এদিকে আন্দোলন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট সীমিত করা, কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরকারি নজরদারি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর একাংশ এসব পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    অন্যদিকে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও ইনস্টাগ্রামে নতুন ধরনের ভিডিও প্রকাশসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং তরুণদের উদ্বেগের কার্যকর সমাধানই আগামী দিনে মোদী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।


    সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন