এআই গ্রহণে দেরি করলে উন্নয়নশীল দেশগুলো পিছিয়ে পড়বে: বিশ্বব্যাংক

এআই প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ, দক্ষ মানবসম্পদ ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে না পারলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিকভাবে এআই ব্যবহার করতে পারলে উন্নয়নশীল দেশগুলো এমন কাজ এক দশকে সম্পন্ন করতে পারবে, যা অতীতে করতে প্রায় এক শতক সময় লাগত। তবে এজন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং নীতিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, উন্নত দেশগুলোতে জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে বিদ্যমান চাকরির ১৪ দশমিক ২ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিপরীতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে উন্নয়নশীল অর্থনীতির ১৬ দশমিক ২ শতাংশ কর্মসংস্থান এআইয়ের মাধ্যমে আরও উৎপাদনশীল হতে পারে, যা উন্নত দেশগুলোর ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ সম্ভাবনার কাছাকাছি।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বড় ডেটা সেন্টার বা ব্যয়বহুল মডেল ছাড়াই স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছোট এআই টুল ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি ও বিচারসেবা আরও কার্যকর করা সম্ভব।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এআই ব্যবহার শুরু করেছে। রোগ নির্ণয়, কৃষি ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ, কর প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতে এ প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষতা তৈরি না হলে এআই বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য, নিরাপত্তা ঝুঁকি, সামাজিক বৈষম্য এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতার মতো নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তিন ধাপের কৌশল অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে—প্রথমে সহজলভ্য এআই টুল গ্রহণ, এরপর স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সেগুলোকে অভিযোজিত করা এবং শেষ ধাপে উন্নত এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের সক্ষমতা গড়ে তোলা।