বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • ফ্রান্সের উত্তর উপকূলে সমুদ্র, স্বাদ ও সৌন্দর্যের খোঁজে

    ফ্রান্সের উত্তর উপকূলে সমুদ্র, স্বাদ ও সৌন্দর্যের খোঁজে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ফ্রান্সের উত্তর উপকূলের সৌন্দর্য শুধু নীল সমুদ্র, দীর্ঘ সৈকত কিংবা সাদা চুনাপাথরের পাহাড়ে সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার সমুদ্রকেন্দ্রিক জীবনযাপন, মাছ ধরার ঐতিহ্য এবং স্থানীয় খাবারের বৈচিত্র্যও ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। কালে থেকে ল্য তুকে পর্যন্ত বিস্তৃত কোত দ’ওপাল অঞ্চল তাই প্রকৃতি ও সামুদ্রিক খাবারের অনন্য সমন্বয়।

    এই উপকূল ঘুরে দেখার শুরু হতে পারে বুলোন-সুর-মের থেকে। ফ্রান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার বন্দর হিসেবে পরিচিত শহরটির সকালের মাছের বাজারে প্রতিদিন হাজির হন স্থানীয় জেলেরা। তাজা মাছ, কাঁকড়া, লবস্টার, শেলফিশসহ নানা সামুদ্রিক খাবারের পসরা বসে এখানে।

    বাজারের বিশেষত্ব হলো তাজা সামুদ্রিক খাবারের বৈচিত্র্য। কোথাও ডগফিশ ফিলে করা হচ্ছে, আবার কোথাও দক্ষ হাতে কাটা হচ্ছে বড় আকারের মঙ্কফিশ। মাছের গালের মাংসের মতো বিশেষ অংশও আলাদা করে রাখা হয়। বাজারের ব্যস্ততা দেখলেই বোঝা যায়, এই অঞ্চলের খাবারের সংস্কৃতির সঙ্গে সমুদ্রের সম্পর্ক কতটা গভীর।

    অদ্রেসেলে সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ

    বুলোন থেকে উপকূলীয় সড়ক ধরে দক্ষিণে গেলে পৌঁছানো যায় ছোট্ট মাছধরা গ্রাম অদ্রেসেল-এ। শান্ত পরিবেশের এই গ্রাম সামুদ্রিক খাবারের জন্যও পরিচিত।

    এখানকার রেস্তোরাঁ লা মারি গালান্তে-তে পাওয়া যেতে পারে রেজর ক্ল্যাম, রসুন ও পার্সলি দিয়ে রান্না করা সামুদ্রিক খাবার এবং জনপ্রিয় ফরাসি পদ ফ্রুই দ্য মের। এক প্লেটে ঝিনুক, সামুদ্রিক শামুক, বড় চিংড়ি ও কাঁকড়ার সমন্বয় তৈরি করে উপকূলীয় খাবারের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা।

    বিশেষ করে কাঁকড়ার শক্ত খোলস ভেঙে খাওয়ার অভিজ্ঞতা খাবারকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। এখানে খাবারের স্বাদের পাশাপাশি উপকূলীয় জীবনের কাছাকাছি থাকার অনুভূতিও পাওয়া যায়।

    উইমরুতে সমুদ্রের পাশে খাবার

    উপকূল ধরে এগোলে আসবে উইমরু। উনিশ শতকের স্থাপত্য, দীর্ঘ সৈকত ও সমুদ্রের মনোরম পরিবেশের কারণে শহরটি উত্তর ফ্রান্সের আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলোর একটি।

    এখানকার হোটেল ল’আটলান্টিকের রেস্তোরাঁয় সামুদ্রিক খাবারের সঙ্গে উপভোগ করা যায় ইংলিশ চ্যানেলের দৃশ্য। মেনুতে থাকতে পারে চিংড়ির ক্রোকেট, বিটরুট পিউরি, রোস্ট কড ফিলে ও সেলারি ক্রিম। তবে খাবারের পাশাপাশি সন্ধ্যার সূর্যাস্তও এই অভিজ্ঞতার অন্যতম আকর্ষণ।

    সমুদ্রের ওপর সূর্যের শেষ আলো ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য খাবারের মুহূর্তকে করে তোলে আরও স্মরণীয়।

    এৎপলে-সুর-মেরে মাছ ধরার ইতিহাস

    পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে এৎপলে-সুর-মের। কঁশ নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ মারেইস। এটি প্রদর্শনীকেন্দ্র ও অ্যাকুয়ারিয়ামের সমন্বয়ে তৈরি একটি জায়গা, যেখানে উত্তর সাগর ও ইংলিশ চ্যানেলের মাছ ধরার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

    ইন্টার‌্যাকটিভ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা জানতে পারেন, কোন ধরনের মাছ সমুদ্র থেকে ধরা হয় এবং মাছ ধরাকে ঘিরে উপকূলীয় মানুষের জীবন কীভাবে গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন অ্যাকুয়ারিয়ামে দেখা যায় সামুদ্রিক প্রাণীর বিচিত্র জগৎ। ফলে এটি শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, সমুদ্র ও স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানারও একটি সুযোগ।

    ল্য তুকে, সমুদ্রের পাশে শেষ আয়োজন

    ভ্রমণের শেষ গন্তব্য হতে পারে ল্য তুকে। দীর্ঘ বালুকাবেলা, পাইনবন ও অবকাশযাপনের পরিবেশের জন্য পরিচিত এই শহর ব্রিটিশ পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়।

    এখানকার রেস্তোরাঁয় পুরো গ্রিল করা সি ব্রিম হতে পারে দিনের অন্যতম আকর্ষণ। তাজা মাছের স্বাভাবিক স্বাদ ধরে রেখে রান্না করা এই পদ সমুদ্রভ্রমণের শেষ খাবার হিসেবে বেশ উপযোগী।

    এরপর সমুদ্রতটে সূর্যাস্ত দেখেই শেষ হতে পারে দিনের যাত্রা। সন্ধ্যার আলোয় বালি ও সমুদ্র যখন সোনালি আভায় বদলে যায়, তখন পুরো ভ্রমণের অভিজ্ঞতাই যেন পূর্ণতা পায়।

    বুলোন-সুর-মেরের ব্যস্ত মাছের বাজার, অদ্রেসেলের ছোট্ট রেস্তোরাঁ, উইমরুর সমুদ্রতীর, এৎপলে-সুর-মেরের সামুদ্রিক ইতিহাস এবং ল্য তুকের দীর্ঘ সৈকত—সব মিলিয়ে কোত দ’ওপাল শুধু একটি উপকূলীয় অঞ্চল নয়; এটি সমুদ্র, খাবার, প্রকৃতি ও ইতিহাসের এক অপূর্ব ভ্রমণপথ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন