সংক্রামক রোগে মসজিদে যাওয়া যাবে কি, ইসলামের বিধান কী

প্রশ্ন: স্ক্যাবিসের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের বিধান কী? এ ধরনের রোগ অন্য মুসল্লিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে করণীয় কী?
উত্তর: ফরজ নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তি যদি স্ক্যাবিসের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন এবং তার মাধ্যমে অন্য মুসল্লিদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাদের কষ্ট ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য মসজিদে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এটি শরিয়তসম্মত ওজর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে এমন ব্যক্তি ঘরে নামাজ আদায় করলে জামাত ত্যাগের গুনাহ হবে না। রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে গেলে তিনি পুনরায় নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাতে অংশ নেবেন।
ইসলামে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই নিজের ইবাদতের পাশাপাশি অন্য মুসল্লিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে সতর্কতা অবলম্বন করাই শরিয়তের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে কোনো গ্রহণযোগ্য ওজর ছাড়া ফরজ নামাজের জামাত ছেড়ে দেওয়া নিন্দনীয়। মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইশা ও ফজরের নামাজ মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারী নামাজ। তারা যদি জানত এ দুই নামাজে কী (সওয়াব) রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো।’ (সহিহ মুসলিম: ৬৫১)
এ ছাড়া নামাজের জন্য দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হওয়াও ফজিলতপূর্ণ আমল। আগে মসজিদে গেলে প্রথম কাতারে নামাজ আদায়, জামাতের শুরু থেকে অংশগ্রহণ, নফল নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতের মতো অতিরিক্ত ইবাদতের সুযোগ পাওয়া যায়। নামাজের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন এবং সে যতক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ নামাজের সওয়াব পেতে থাকে।
তবে এসব ফজিলত অর্জনের পাশাপাশি অন্য মুসল্লিদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি রোগ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে নামাজ আদায় করতে পারেন। সুস্থ হওয়ার পর মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের অভ্যাস পুনরায় চালু করবেন।
ইসলামি বিধানের মূল শিক্ষা হলো—ইবাদত পালনের পাশাপাশি অন্য মানুষের ক্ষতি ও কষ্টের কারণ হওয়া থেকে বিরত থাকা।
সূত্র: রদ্দুল মুহতার আলাদ্দুররিল মুখতার: ১/৫৫৫; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৮৩; বাহরুর রায়েক শরহু কানযিদ দাকায়িক: ১/৩৪৫; ফাতাওয়ায়ে আহসান: ৩/২৮০; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৬/৪০৫; ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ: ৩/৫৫।