বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নিদর্শন রক্ষায় কঠোর আইন

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নিদর্শন রক্ষায় কঠোর আইন
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে জাদুঘরের অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

সম্প্রতি প্রণীত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’-এ এসব শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, স্মৃতিচিহ্ন, দলিল ও নিদর্শন সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

গণভবনে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গত ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হয়।

আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকার গণভবনে।

এ ছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসব গোপন কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার থাকবে প্রতিষ্ঠানের।

কোনো গোপন কারাগার কোনো সরকারি বা অন্য কোনো সংস্থার অধীনে থাকলে, সেটি যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থাতেই জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এসব স্থাপনা জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে বিবেচিত ও পরিচালিত হবে।

আইনের ৫ ধারায় জাদুঘরের কার্যক্রমের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।

পাশাপাশি পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিদর্শনও সংরক্ষণ করা হবে।

এ ছাড়া গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, ফ্যাসিবাদের উত্থান এবং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনা ও দলিলের অনুসন্ধান, সংগ্রহ, গবেষণা ও প্রদর্শনের দায়িত্বও জাদুঘরের থাকবে।

আইনের ১৫ ধারায় জাদুঘরের নিদর্শন বিনিময় ও উপহার গ্রহণের বিষয়ে বিধান রাখা হয়েছে।

পর্ষদের সুপারিশ এবং সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, অন্য কোনো জাদুঘর কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় করতে পারবে জাদুঘর।

এ ছাড়া নিদর্শন উপহার দেওয়া বা গ্রহণও করা যাবে। তবে এ ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী বিনিময় এবং উপহার প্রদান বা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি করতে হবে।

নিদর্শন উদ্ধারে পরিদর্শনের ক্ষমতা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে—এমন বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকলে জাদুঘরের মহাপরিচালক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন।

আইন বা এর অধীনে প্রণীত বিধি ও প্রবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁদের দেওয়া হয়েছে।

আইনের ১৭ ধারায় জাদুঘরে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে পর্ষদ নির্ধারিত প্রবেশমূল্য পরিশোধ করে দর্শনার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশ করতে হবে।

স্থাবর নিদর্শন নষ্ট করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা

জাদুঘরের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সুরক্ষায় আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শন বা এর কোনো অংশ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন কিংবা ক্ষতিসাধন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা একই সঙ্গে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

আইনের ২৩ ধারায় অস্থাবর নিদর্শনের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।

এ জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নিদর্শনে লেখা বা খোদাই করলেও শাস্তি

জাদুঘরের সংগ্রহ বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের ওপর খোদাই করা, লেখা, লিপি উৎকীর্ণ করা কিংবা স্বাক্ষর করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এসব অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের অধীনে শাস্তির পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান থাকলে বিভাগীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, স্মৃতিচিহ্ন ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণের পাশাপাশি এসব নিদর্শনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাদুঘরের সংগ্রহ নষ্ট, চুরি বা বিকৃতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন