বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

জেন আলফা’র আন্দোলনে সরব ভারত, স্কুলের উন্নয়নে রাজপথে খুদে শিক্ষার্থীরা

জেন আলফা’র আন্দোলনে সরব ভারত, স্কুলের উন্নয়নে রাজপথে খুদে শিক্ষার্থীরা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

জেনারেশন জি বা ‘জেন জি’র পর এবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সরব হচ্ছে ‘জেন আলফা’। উন্নত সড়ক, নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত শিক্ষক, ভালো অবকাঠামো ও স্কুলে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের এসব আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কোথাও রাস্তার দাবিতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে যাচ্ছে তারা, আবার কোথাও শিক্ষক সংকট ও স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে

ভারতে তরুণদের একটি অনলাইনভিত্তিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ শিক্ষা খাতে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

পরে বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে সরব হতে শুরু করে। স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, নষ্ট ফ্যান, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, দুর্বল সড়ক যোগাযোগ এবং পরিবহন সংকট—এসব বিষয় উঠে আসছে তাদের দাবিতে।

উত্তর প্রদেশে সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিল

উত্তর প্রদেশের হামিরপুরে গত ১১ আগস্ট একদল খুদে শিক্ষার্থী পাকা সড়কের দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করে।

বৃষ্টির কারণে চলাচলের রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়া এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিকল্প পথ বন্ধ করে দেওয়ার পর তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে এ কর্মসূচি নেয়।

এর আগে ফতেহপুরের কিশানপুরে একটি কলেজের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী সুপেয় পানি, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ফ্যান, অবকাঠামো সংস্কার ও মানসম্মত মিড-ডে মিলের দাবিতে অবস্থান নেয়। পরে শিক্ষা কর্মকর্তারা দাবিগুলো বাস্তবায়নের লিখিত আশ্বাস দেন।

শিক্ষক সংকট নিয়ে রাজস্থানে বিক্ষোভ

রাজস্থানের বারমেরে সরকারি স্কুলে শিক্ষক সংকট দূর করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেছে। জালোরের মেগালওয়া ও জয়পুরেও শিক্ষার্থীরা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিশেষ করে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রতীকী ভাষায় প্রতিবাদও নজর কেড়েছে।

বিহারে খাবার ও অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ

বিহারের গয়া জেলার একটি মিডল স্কুলের ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিম্নমানের খাবার, নষ্ট পানির কল, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট এবং খেলাধুলার সরঞ্জামের সংকটের অভিযোগে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দেয় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

পরিবহন নিয়েও সরব শিক্ষার্থীরা

মধ্য প্রদেশের সিরোঞ্জে বাসভাড়া বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগে একদল ছাত্রী বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।

মহারাষ্ট্রেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামতে দেখা গেছে। ধরাশিবের একটি স্কুলে শিক্ষক সংকট দূর করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

নাগপুরের খেতাপুরে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ কাদাপথ পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াতের সমস্যার কথা জানিয়ে বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে। নাশিকের শিক্ষার্থীরা আবার ভাঙাচোরা সড়কের সমস্যা তুলে ধরতে নিজেদের উদ্যোগে ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার করেছে।

উত্তরাখণ্ডেও সুবিধা বাড়ানোর দাবি

দেরাদুনের শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। ক্যাম্পাসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তা এবং স্থায়ী পরিচালক নিয়োগের দাবিতে তারা আগস্টে কয়েক দিন ধরে কর্মসূচি পালন করে।

নতুন প্রজন্মের নতুন প্রতিবাদ

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের এসব কর্মসূচি দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন প্রজন্ম শুধু অনলাইনেই নিজেদের মতামত প্রকাশ করছে না; প্রয়োজন হলে নাগরিক সুবিধা ও শিক্ষার অধিকার নিয়েও সরাসরি প্রশাসনের সামনে দাঁড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপদ যাতায়াত, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সামগ্রিকভাবে একটি দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত। ফলে খুদে শিক্ষার্থীদের এসব দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


সূত্র: উইয়ন নিউজ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন