বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

ইরাকের মাটি ব্যবহার করে হামলা চালাতে দেওয়া হবে না: জাইদি

ইরাকের মাটি ব্যবহার করে হামলা চালাতে দেওয়া হবে না: জাইদি
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। তিনি বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না বাগদাদ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইরাকের বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ডের অপারেশন সেন্টার পরিদর্শনের সময় এ অবস্থান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমাকে কোনো পক্ষের আগ্রাসনের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

জাইদি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব অলঙ্ঘনীয়। ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইরাকের এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এর আগে ৭ আগস্ট সৌদি গোয়েন্দাপ্রধান খালিদ আল-হুমাইদানের সঙ্গে বৈঠকেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন জাইদি। ওই সময়ও ইরাকের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় ব্যবহার না করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্প্রতি ইরাকের ভূখণ্ডে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা এবং ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলার হুমকিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে এসব বিমান হামলা চালানো হয়েছিল।

এ ধরনের পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় আঞ্চলিক সংঘাতে ইরাকের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তাই নিজ ভূখণ্ড ও আকাশসীমা কোনো পক্ষকে ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে জোর দিচ্ছে বাগদাদ।

ইরাকের অবস্থান দেশটির পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরছে। বাগদাদ কোনো আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে নিজের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দিতে চায় না। একই সঙ্গে দেশের আকাশসীমা ও সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও ইরাকের এ নীতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ইরান, সৌদি আরব, সিরিয়া ও তুরস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তির কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালিত হলে দেশটি সহজেই বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাইদি জানিয়েছিলেন, ইরাকের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কমানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার ঘোষণা মূলত দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরপেক্ষতা রক্ষার নীতিরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যে বাগদাদ যে সরাসরি কোনো পক্ষের সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না, এ অবস্থান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন