পিক্সেল ১১ সিরিজে বড় আপগ্রেড, সঙ্গে নতুন ওয়াচ ও ট্যাগ

গুগল উন্মোচন করেছে নতুন প্রজন্মের পিক্সেল ১১ সিরিজ। স্মার্টফোনের পাশাপাশি এবারের আয়োজনে এসেছে পিক্সেল ওয়াচ ৫ ও পিক্সেল ট্যাগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্যামেরা, ব্যাটারি, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন সিরিজে রয়েছে পিক্সেল ১১, পিক্সেল ১১ প্রো, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল এবং পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে বড় পর্দার ফোন ও ভাঁজযোগ্য ডিভাইস পছন্দ করেন—সব ধরনের ব্যবহারকারীর জন্যই নতুন মডেল এনেছে গুগল।
টেনসর জি৬ চিপে এআইকে বাড়তি গুরুত্ব
পিক্সেল ১১ সিরিজের অন্যতম বড় পরিবর্তন নতুন টেনসর জি৬ চিপ। গুগলের নিজস্ব এই চিপে ফোনের কর্মক্ষমতা ও শক্তি ব্যবহারের দক্ষতার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেমিনি প্রযুক্তিকে ফোনের বিভিন্ন ফিচারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ছবি, ভিডিও, অনুবাদ, অনুসন্ধানসহ দৈনন্দিন নানা কাজে এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে গুগলের।
ক্যামেরায় নতুন সুবিধা
পিক্সেল সিরিজ বরাবরই ক্যামেরার জন্য পরিচিত। নতুন প্রজন্মেও ক্যামেরাকে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে।
নতুন ফোনে ক্যামেরা মডিউলের নকশায় পরিবর্তনের পাশাপাশি দূরের ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ ও এআইনির্ভর ছবি সম্পাদনার সুবিধা উন্নত করা হয়েছে। ভিডিও থেকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি বের করে নেওয়া এবং ভিডিও ধারণের সময় স্থিরতা বাড়ানোর মতো ফিচারও রয়েছে।
পিক্সেল ১১ প্রো ও ১১ প্রো এক্সএল মডেলে ১২০ গুণ পর্যন্ত জুম সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রো মডেলগুলোতে রাতের ছবি, ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশন এবং উচ্চমানের ভিডিও ধারণের সুবিধাতেও উন্নতি আনা হয়েছে।
‘হাইলাইট’ আলোয় মিলবে দৃশ্যমান সংকেত
প্রো মডেলগুলোর নতুন ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হাইলাইট’। ক্যামেরা অংশের কাছে থাকা এই আলোক সংকেত নির্দিষ্ট যোগাযোগ বা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে দৃশ্যমান বার্তা দিতে পারে।
এর ফলে ফোনের পর্দায় না তাকিয়েও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন বা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
জেমিনিতে আরও স্মার্ট পিক্সেল
নতুন পিক্সেল ফোনে গুগলের জেমিনি এআইয়ের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ভিডিও অনুবাদ, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ, কথাকে লেখায় রূপান্তর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার মতো কাজে এআই সহায়তা পাওয়া যাবে।
ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে ফোনকে আরও কার্যকর ডিজিটাল সহকারী হিসেবে গড়ে তোলাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ডেও পরিবর্তন
ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে নতুন পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড এনেছে গুগল। আগের সংস্করণের তুলনায় নতুন মডেলটি আরও পাতলা ও হালকা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
পাশাপাশি ক্যামেরা ব্যবস্থায় উন্নতি, পর্দার চারপাশের অংশ সরু করা এবং ডিভাইসের স্থায়িত্ব বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পিক্সেল ওয়াচ ৫-এ স্বাস্থ্য নজরদারি
স্মার্টফোনের পাশাপাশি নতুন পিক্সেল ওয়াচ ৫ উন্মোচন করেছে গুগল। দুটি আকারে পাওয়া যাবে নতুন এই স্মার্টওয়াচ।
স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চা পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে এতে উন্নত অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা, রক্তচাপ ও রক্তে অক্সিজেনের মতো স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্য সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
জেমিনিকেও ঘড়ির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করেছে গুগল। শরীরচর্চা ও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে এআইনির্ভর সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
হারানো জিনিস খুঁজে দেবে পিক্সেল ট্যাগ
নতুন ডিভাইসের তালিকায় রয়েছে পিক্সেল ট্যাগ। ছোট এই ট্র্যাকারটি ব্যাগ, চাবি বা গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা যাবে।
গুগলের ফাইন্ড হাব নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করবে পিক্সেল ট্যাগ। আল্ট্রাওয়াইডব্যান্ড প্রযুক্তির সহায়তায় কাছাকাছি থাকা হারানো জিনিসের অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে।
ডিভাইসটির দাম রাখা হয়েছে ২৯ ডলার এবং এটি নভেম্বর থেকে বাজারে আসার কথা রয়েছে।
নতুন সিরিজের দাম
নতুন পিক্সেল ১১-এর দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৯০০ ডলার থেকে। প্রো, প্রো এক্সএল এবং প্রো ফোল্ড মডেলের দাম আরও বেশি। নতুন সিরিজে সর্বনিম্ন স্টোরেজ হিসেবে ২৫৬ গিগাবাইট রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পিক্সেল ১১ সিরিজে শুধু প্রসেসর বা নকশায় পরিবর্তন আনেনি গুগল। স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ ও ট্র্যাকারকে একই প্রযুক্তি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে এআইনির্ভর অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্যামেরা ও অনুবাদ থেকে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ কিংবা হারানো জিনিস খুঁজে বের করা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করার পাশাপাশি গুগলের নিজস্ব ডিভাইস ইকোসিস্টেমকে আরও সমন্বিত করার লক্ষ্যও স্পষ্ট হয়েছে।