মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুত ইসি, ভোট ২০ আগস্ট ‘যুদ্ধ ও কূটনীতি—দুই ক্ষেত্রেই ইরান জিতেছে’, দাবি আরাঘচির মার্জিন ঋণে নতুন নিয়ম, গেজেট প্রকাশ করে বিধিমালা কার্যকর করল বিএসইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সিইসির সঙ্গে আইজিপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদন নাকচ, ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও রিট খারিজ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৯০ এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই জরিমানা ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সতর্ক করল আইসিডিডিআর,বি বাণিজ্য-বিনিয়োগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ মাদকের গডফাদারদের ধরতে অভিযান জোরদার: কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের টিকিট শেষ অস্ট্রেলিয়ায়
  • ভালোবাসা, মান-অভিমান আর একসঙ্গে পথচলার দিন

    ভালোবাসা, মান-অভিমান আর একসঙ্গে পথচলার দিন
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দাম্পত্য মানেই শুধু ভালোবাসা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মান-অভিমান, ছোটখাটো ঝগড়া, হাসি-কান্না আর অসংখ্য স্মৃতি। কখনো একজন রাগ করেন, অন্যজন মান ভাঙানোর চেষ্টা করেন। আবার কিছুক্ষণ পরই দুজন মিলে ঠিক করেন—চা কে বানাবেন! এই টানাপোড়েনের মধ্যেই তৈরি হয় একসঙ্গে পথচলার সুন্দর গল্প। সেই সম্পর্ককে আরও একবার উদ্‌যাপন করার উপলক্ষ দম্পতি দিবস।

    ভালোবাসা প্রকাশের জন্য সবসময় দামি উপহার কিংবা বিলাসী আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানো, পুরোনো ছবি দেখা, পছন্দের গান শোনা কিংবা একসঙ্গে হাঁটতে বের হওয়াও হতে পারে বিশেষ উদ্‌যাপন। ব্যস্ত জীবনে একে অপরের জন্য সময় বের করাই আসল বিষয়।

    দম্পতি দিবসের পেছনের গল্প

    দুই মানুষের একসঙ্গে জীবন কাটানোর ইতিহাস মানবসভ্যতার মতোই পুরোনো। নানা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কাহিনিতে দাম্পত্য সম্পর্কের উদাহরণ রয়েছে। প্রেম ও সম্পর্কের কারণে ইতিহাসে আলোচিত হয়েছেন ক্লিওপেট্রা ও মার্ক অ্যান্টনি থেকে শুরু করে ব্রিটেনের রাজা এডওয়ার্ড অষ্টম ও ওয়ালিস সিম্পসন।

    সাহিত্যেও প্রেম ও দাম্পত্যের অসংখ্য গল্প রয়েছে। কবি এলিজাবেথ ব্যারেট ও রবার্ট ব্রাউনিংয়ের সম্পর্ক ছিল চিঠি বিনিময় থেকে শুরু হওয়া এক রোমান্টিক অধ্যায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে তারা গোপনে বিয়ে করেন এবং ইতালিতে চলে যান।

    অন্যদিকে, ১৯৩৬ সালে এডওয়ার্ড অষ্টম ওয়ালিস সিম্পসনের সঙ্গে সম্পর্ককে বেছে নিয়ে ব্রিটিশ সিংহাসন ত্যাগ করেন। ব্যক্তিগত ভালোবাসার জন্য রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা আজও ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রেমকাহিনি।

    ইতিহাসের আলোচিত দম্পতিরা

    দম্পতি দিবসে নিজেদের সম্পর্কের পাশাপাশি ইতিহাসের বিখ্যাত জুটিদের গল্পও মনে করা যায়।

    রানী ভিক্টোরিয়া ও প্রিন্স অ্যালবার্টের দাম্পত্য ছিল ভালোবাসা ও পারস্পরিক বন্ধনের জন্য পরিচিত। অ্যালবার্টের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় শোক পালন করেছিলেন ভিক্টোরিয়া।

    মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও কোরেটা স্কট কিং ছিলেন জীবনসঙ্গীর পাশাপাশি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সহযোদ্ধা। স্বামীর মৃত্যুর পরও কোরেটা তাঁর সামাজিক ও মানবাধিকারমূলক কাজ চালিয়ে যান।

    আধুনিক শিল্পের জগতেও রবার্ট রাউশেনবার্গ ও জ্যাসপার জনসের সম্পর্ক এবং যৌথ সৃজনশীল যাত্রা আলোচিত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও শিল্পজগতে তাঁদের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

    সঙ্গীকে খুশি করতে যা করতে পারেন

    বিশেষ দিন মানেই বড় আয়োজন—এমনটা নয়। ছোট্ট কিছু উদ্যোগও সঙ্গীর মনে দীর্ঘদিনের জন্য জায়গা করে নিতে পারে।

    আয়নার সামনে কিংবা টেবিলে ভালোবাসার ছোট্ট একটি চিরকুট রেখে দিতে পারেন। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে হঠাৎ ফোন করে খোঁজ নিতে পারেন। একসঙ্গে হাঁটতে বের হওয়া, প্রিয় খাবার রান্না করা, পুরোনো কোনো স্মৃতির জায়গায় ঘুরে যাওয়া কিংবা দুজনের পছন্দের গান শোনার আয়োজনও হতে পারে সুন্দর উদ্‌যাপন।

    আর একটু মজার কিছু করতে চাইলে সঙ্গীকে বলতে পারেন, ‘আজকের ঝগড়ায় তুমি জিতলে!’ তবে এরপর কী হবে, সেটি অবশ্য আপনার নিজের ঝুঁকিতে!

    একসঙ্গে দেখতে পারেন প্রেমের সিনেমা

    দম্পতি দিবসে ঘরে বসে সিনেমা দেখেও সময় কাটানো যায়। সম্পর্ক ও ভালোবাসার গল্প নিয়ে তৈরি বেশ কিছু সিনেমা এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন।

    মেরি ও পিয়ের কুরির জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত ‘রেডিওঅ্যাকটিভ’ (২০২০) যেমন ভালো লাগতে পারে। জনি ক্যাশ ও জুন কার্টারের সম্পর্কের গল্প নিয়ে তৈরি ‘ওয়াক দ্য লাইন’ (২০০৫)-ও হতে পারে পছন্দের তালিকায়।

    এ ছাড়া বিয়ের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত ‘লাভিং’ (২০১৬) এবং বারাক ও মিশেল ওবামার প্রথম ডেটের গল্প নিয়ে তৈরি ‘সাউথসাইড উইথ ইউ’ (২০১৬) দেখা যেতে পারে।

    নিজেদের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলুন

    দীর্ঘদিনের সম্পর্কে অনেক কিছুই অভ্যাসে পরিণত হয়। তাই বিশেষ দিনটি হতে পারে একে অপরকে নতুন করে জানার সুযোগ।

    দুজন মিলে আলোচনা করতে পারেন—সঙ্গীর কোন বিষয়টি সবচেয়ে ভালো লাগে, কোন স্মৃতিটি সবচেয়ে আনন্দের এবং একসঙ্গে থাকার কোন দিকটি জীবনকে সুন্দর করেছে।

    তবে এই আলোচনায় সঙ্গীর ভুল বা বদভ্যাসের দীর্ঘ তালিকা তৈরি না করাই ভালো। বিশেষ দিনটি অভিযোগের চেয়ে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্যই বেশি উপযুক্ত।

    পছন্দের গানেই ফিরুক পুরোনো স্মৃতি

    প্রতিটি সম্পর্কের সঙ্গেই কোনো না কোনো গান জড়িয়ে থাকে। দুজনের বিশেষ মুহূর্তের গানগুলো নিয়ে তৈরি করতে পারেন নিজেদের একটি প্লেলিস্ট।

    শোনা যেতে পারে ‘স্টিল দ্য ওয়ান’, ‘হোয়েন আ ম্যান লাভস আ ওম্যান’, ‘লেটস স্টে টুগেদার’ কিংবা এড শিরানের ‘থিংকিং আউট লাউড’। দুজনের পছন্দ আলাদা হলে দুই পক্ষের পছন্দের গানই থাকুক তালিকায়—এটাই তো দাম্পত্যের সুন্দর সমঝোতা।

    দম্পতি দিবস আসলে ভালোবাসার মানুষটির জন্য আলাদা করে কিছুটা সময় রাখার একটি উপলক্ষ। দামি উপহার, ফুল কিংবা বিশেষ আয়োজন থাকলে ভালো; তবে সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তরিকতা, সম্মান ও পারস্পরিক যত্ন।

    দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার অনেক সময় কোনো বস্তু নয়। ব্যস্ত দিনের শেষে পাশে থাকা মানুষটিকে বলা—‘আমি আছি’—এই ছোট্ট আশ্বাসই হতে পারে সবচেয়ে বড় ভালোবাসা।

    তাই আজ একটু বেশি কথা বলুন, একসঙ্গে হাসুন, পুরোনো স্মৃতি মনে করুন। আর যদি ঝগড়াই হয়, দিনের শেষে কে আগে ‘সরি’ বলবেন, সেটিও ঠিক করে রাখুন!


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ