তাৎক্ষণিক নয়, পায়রার গতিতে মেসেজ পাঠাবে ‘ক্যারিয়ার পিজ’

তাৎক্ষণিক বার্তা, মুহূর্তে নোটিফিকেশন আর সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই—বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই দ্রুতগতির অভিজ্ঞতার বাইরে ভিন্নধর্মী ধারণা নিয়ে আলোচনায় এসেছে নতুন মেসেজিং অ্যাপ ‘ক্যারিয়ার পিজ’। অ্যাপটির বিশেষত্ব হলো, এখানে মেসেজ তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছায় না। বরং ভার্চুয়াল পায়রার মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় বার্তাকে।
সফটওয়্যার প্রকৌশলী নোওয়াহ ইয়ারোবিনো তৈরি করেছেন আইওএসভিত্তিক এই অ্যাপ। ‘স্লো-শ্যাল’ বা ধীরগতির সামাজিক যোগাযোগের ধারণাকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়েছে এটি। ব্যবহারকারী মেসেজ পাঠানোর পর একটি ভার্চুয়াল পায়রা সেটি নিয়ে প্রাপকের উদ্দেশে উড়ে যায়। পায়রার যাত্রা শেষ হলেই কেবল প্রাপক বার্তাটি দেখতে পারেন।
ক্যারিয়ার পিজে প্রেরক ও প্রাপকের অবস্থানের দূরত্ব জিপিএসের মাধ্যমে হিসাব করা হয়। সেই দূরত্বের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় মেসেজ পৌঁছানোর সময়। অ্যাপের ভার্চুয়াল পায়রা ঘণ্টায় প্রায় ১১০ মাইল বা ১৭৭ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। তবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এর গতি প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবেশি হতে পারে।
ফলে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ব্যবহারকারীদের মধ্যে মেসেজ কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু দূরত্ব বেশি হলে অপেক্ষার সময়ও বাড়বে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বার্তা পৌঁছাতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক মাসও লাগতে পারে। ব্যবহারকারীরা অ্যাপের ম্যাপে পায়রার যাত্রাপথ ও অবস্থান রিয়েল-টাইমে দেখতে পারেন।
তবে শুধু অপেক্ষা করলেই যে মেসেজ পৌঁছাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। অ্যাপটিকে আরও বাস্তবসম্মত ও মজাদার করে তুলতে নির্মাতা ভার্চুয়াল পায়রার যাত্রায় ঝুঁকির বিষয়টিও যুক্ত করেছেন। প্রতিটি পায়রার মাঝপথে হারিয়ে যাওয়া বা মারা যাওয়ার ০.২ শতাংশ সম্ভাবনা রাখা হয়েছে। এমনটি হলে পায়রার সঙ্গে থাকা মেসেজও প্রাপকের কাছে পৌঁছাবে না।
এ কারণে প্রচলিত মেসেজিং অ্যাপের মতো এখানে ‘সেন্ট’ বা ‘ডেলিভার্ড’ দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বার্তাটি শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করছে ভার্চুয়াল পায়রার সফল যাত্রার ওপর।
অ্যাপটির নকশাতেও রয়েছে পুরোনো দিনের চিঠিপত্রের আবহ। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে থাকা ক্যারিয়ার পিজের ডিজাইনে পুরোনো চিঠির কাগজের মতো রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা বন্ধুদের নিজেদের ‘ফ্লক’ বা পাখির দলে যুক্ত করতে পারেন।
অ্যাপটি অ্যাপ স্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা গেলেও এতে ইন-অ্যাপ পারচেস সুবিধা রয়েছে। নির্মাতা নোওয়াহ ইয়ারোবিনো মূলত মজার ছলে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে অ্যাপটি তৈরি করেছিলেন। তবে তাঁর পোস্ট ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুতই এটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়।
বর্তমানে অ্যাপটি অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং বিভাগে ৪.৩ রেটিং নিয়ে শীর্ষ তালিকার ২৩ নম্বরে অবস্থান করছে।
এর আগে ‘রুস্ট’ নামের আরেকটি স্লো-শ্যাল অ্যাপও একই ধরনের ধারণার কারণে আলোচনায় এসেছিল। তবে রুস্টে শুধু পায়রা নয়, বিভিন্ন পাখির পাশাপাশি শামুক ও কচ্ছপকেও বার্তাবাহক হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ভাইরাল হওয়ার পর রুস্টের ব্যবহারকারী সংখ্যা মাত্র তিন দিনে ১০ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখে পৌঁছায়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ লাখের কাছাকাছি চলে যায়।
বাস্তব যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের ধীরগতির মেসেজিং অ্যাপ কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থার বাইরে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেওয়ার কারণে এগুলো নেটিজেনদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করছে।