অস্ট্রেলিয়ায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল মেটা

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার সন্দেহভাজন অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি ও সম্ভাব্য জরিমানার মুখে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই তথ্য জানিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন আইন কার্যকর হয়। এরপর চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মেটা প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার ইনস্টাগ্রাম এবং ২ লাখ ৯৪ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে।
এর আগে জানুয়ারিতে মেটা জানিয়েছিল, তারা প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার ইনস্টাগ্রাম ও ১ লাখ ৭৩ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর বিভিন্ন উপায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
প্রস্তাবিত নতুন আইনে নিয়ম ভঙ্গকারী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৯ কোটি ৯ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার করার কথা বলা হয়েছে।
এআই দিয়ে শনাক্ত হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্করা
মেটা জানিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন প্রোফাইল বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীর জন্মদিনের শুভেচ্ছা, স্কুল বা শ্রেণি-সংক্রান্ত তথ্য, ছবির ক্যাপশনসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে বয়স সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হচ্ছে।
সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে। মেটা বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার নতুন বয়সসীমা-সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও নজরদারিতে
শুধু মেটা নয়, অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে রয়েছে অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও। টিকটক, ইউটিউবের মালিক গুগল এবং স্ন্যাপচ্যাটের প্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সামনে হাজির হয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার কথা রয়েছে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।