নফল রোজা ভেঙে ফেললে কী করতে হবে?

রমজানের ফরজ রোজার বাইরে সুন্নত বা নফল রোজা অনেক মুসলমানই সওয়াবের আশায় পালন করেন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—নফল রোজা শুরু করার পর কোনো কারণে তা ভেঙে গেলে কী কাফফারা দিতে হয়? ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কেউ যদি নফল বা সুন্নত রোজা শুরু করেন, তাহলে তা সম্পূর্ণ করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যায়। তাই মাঝপথে সেই রোজা ভেঙে ফেললে পরবর্তীতে ওই দিনের পরিবর্তে একটি কাজা রোজা রাখা আবশ্যক।
যদি বৈধ কোনো কারণ—যেমন অসুস্থতা, সফর বা অন্য গ্রহণযোগ্য ওজর—থাকে, তাহলে রোজা ভাঙার কারণে গুনাহ হবে না। তবে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া নফল রোজা ভাঙাকে অনেক আলেম মাকরুহ বলেছেন। আবার কিছু ফকিহের মতে, পরে কাজা করার নিয়ত থাকলে বিশেষ প্রয়োজনে নফল রোজা ভাঙা বৈধ।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নফল রোজা ভেঙে ফেললে রমজানের ফরজ রোজার মতো কাফফারা আদায় করতে হয় না। এ ক্ষেত্রে শুধু একটি কাজা রোজা রাখলেই দায়িত্ব পালন হয়ে যায়।
হানাফি মাজহাবের বিশিষ্ট ফকিহ আল্লামা ইবনে মওদুদ আল-মাওসিলি (রহ.) তাঁর ‘আল-ইখতিয়ার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, নফল ইবাদত শুরু করলে তা পূর্ণ করা এবং ভঙ্গ করলে কাজা করা আবশ্যক। তিনি এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের আয়াত—“তোমরা তোমাদের আমলগুলো বাতিল করো না।” (সুরা মুহাম্মদ: ৩৩)—উল্লেখ করেছেন।
হাদিসেও এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে নফল রোজা ভেঙে দাওয়াতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়ে পরে আরেক দিন সেই রোজা কাজা রাখতে নির্দেশ দেন। একইভাবে হজরত আয়েশা (রা.) ও হজরত হাফসা (রা.) নফল রোজা ভেঙে ফেললে নবী করিম (সা.) তাঁদের ওই রোজার পরিবর্তে আরেক দিন রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
অতএব, নফল রোজা ভেঙে গেলে শুধু একটি কাজা রোজা আদায় করতে হবে; এর জন্য কোনো কাফফারা ওয়াজিব নয়।