ফরজ গোসলে নিয়ত না করলে কি গোসল শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন: গোসল ফরজ হওয়ার পর প্রতিদিনের মতো গোসল করেছি। কুলি করেছি, নাকে পানি দিয়েছি এবং পুরো শরীর ধুয়েছি। তবে তখন মনে ছিল না যে আমার ওপর ফরজ গোসল ছিল এবং আলাদা করে ফরজ গোসলের নিয়তও করিনি। এ অবস্থায় কি আমার ফরজ গোসল আদায় হয়েছে, নাকি আবার গোসল করতে হবে?
উত্তর: ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ফরজ গোসলের মূল শর্ত হলো—মুখে কুলি করা, নাকে পানি পৌঁছানো এবং শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো। নিয়ত করা সুন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ আমল হলেও অধিকাংশ ফকিহের মতে এটি ফরজ গোসলের অপরিহার্য শর্ত নয়।
তাই কেউ যদি কুলি করে, নাকে পানি দিয়ে এবং শরীরের সব অংশ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলেন, তাহলে আলাদা করে ফরজ গোসলের নিয়ত মনে না থাকলেও তার গোসল শুদ্ধ হবে এবং তিনি পবিত্র হয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে পুনরায় গোসল করার প্রয়োজন নেই।
তবে গোসলের কোনো ফরজ অংশ বাদ পড়ে গেলে—যেমন কুলি না করা, নাকে পানি না দেওয়া বা শরীরের কোনো অংশ শুকনো থেকে যাওয়া—তাহলে পরে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু বাদ পড়া অংশটি সম্পন্ন করলেই গোসল পূর্ণ হয়ে যাবে। নতুন করে পুরো গোসল করা আবশ্যক নয়।
তবে গোসল সম্পূর্ণ হওয়ার আগে যদি কোনো নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে, তাহলে গোসলের ঘাটতি পূরণ করার পর ওই নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।
সুন্নত অনুযায়ী ফরজ গোসলের নিয়ম
- মনে মনে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করুন।
- ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করুন।
- দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধুয়ে নিন।
- শরীর বা কাপড়ে নাপাকি থাকলে তা পরিষ্কার করুন।
- ভালোভাবে কুলি করুন এবং নাকে পানি দিন।
- এরপর অজু সম্পন্ন করুন।
- মাথায় পানি ঢেলে চুল ও দাড়ির গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছে দিন।
- প্রথমে ডান কাঁধ, পরে বাম কাঁধে পানি ঢেলে পুরো শরীর ধুয়ে ফেলুন।
- শরীরের প্রতিটি অংশে ভালোভাবে পানি পৌঁছেছে কি না নিশ্চিত করুন।
- শেষে পায়ের আঙুল খিলাল করে পা ধুয়ে নিন।
যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়
- উত্তেজনার সঙ্গে বীর্যপাত হলে।
- স্বামী-স্ত্রীর সহবাস হলে, বীর্যপাত না হলেও।
- নারীর মাসিক (হায়েজ) শেষ হলে।
- সন্তান জন্মের পর নেফাসের রক্তপাত বন্ধ হলে।