একটি নেক আমলে মিলতে পারে ৭০০ গুণ সওয়াব

দুনিয়ার জীবন মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সফল হতে হলে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করতে হবে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, ঈমানের সঙ্গে নেক আমলই মানুষের পরকালীন সফলতার অন্যতম মাধ্যম। আর এর প্রতিদান হিসেবে রয়েছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)
অন্য আয়াতে মুমিন ও নেককারদের সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)
এ ছাড়া সুরা বাকারার ৮২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’
তাই একজন মুমিনের জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি আল্লাহর বিধান ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা জরুরি। ইসলাম নেক আমলের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেছে এবং এসব আমলের জন্য বহুগুণ সওয়াবের সুসংবাদ দিয়েছে।
হাদিসে এসেছে, ভালো কাজের প্রতিদান কখনো এক গুণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মানুষের নিয়ত, আমল ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের কারণে একটি নেক কাজের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের ওপর কায়েম থাকে, তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত সওয়াব লেখা হয়। আর সে যে মন্দ কাজ করে, তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই মন্দ লেখা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪০)
আরেক হাদিসে নেক কাজের নিয়তের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করে বলেন, কোনো ব্যক্তি ভালো কাজ করার ইচ্ছা করল, কিন্তু তা করতে পারল না, তবুও তার জন্য পূর্ণ একটি নেকি লেখা হয়।
আর সে ভালো কাজের ইচ্ছা করার পর তা বাস্তবে সম্পন্ন করলে তার জন্য ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত, এমনকি এর চেয়েও বেশি সওয়াব লেখা হয়।
অন্যদিকে, কেউ কোনো অসৎ কাজের ইচ্ছা করেও তা থেকে বিরত থাকলে তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লেখা হয়। আর অসৎ কাজের ইচ্ছা করে তা বাস্তবায়ন করলে তার জন্য একটি পাপই লেখা হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৪৭)
দান-সদকার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ ফজিলত। খুরয়ম ইবনু ফাতিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কিছু ব্যয় করবে, তার জন্য এর বিনিময়ে সাতশ গুণ সওয়াব প্রদান করা হবে।’ (মেশকাত, হাদিস: ৩৮২৬)
এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, ইসলামে শুধু নেক কাজ করাই নয়, ভালো কাজের নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুমিনের উচিত গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিয়মিত নেক আমল করা এবং আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করা।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও মানুষের আমলের ফল পরকালে স্থায়ী হবে। তাই জান্নাতের প্রত্যাশী মুমিনের জন্য প্রতিটি ভালো কাজের সুযোগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই হওয়া উচিত জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।