যে বন্ধুত্ব দুনিয়ায় নয়, আখেরাতেও ডেকে আনবে অনুতাপ

মানুষের জীবনে বন্ধুত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। একজন ভালো বন্ধু যেমন মানুষকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে, তেমনি অসৎ সঙ্গ মানুষের জীবনকে বিপথেও নিয়ে যেতে পারে। তাই ইসলাম বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই তোমাদের প্রত্যেকের উচিত, কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।” (সুনানে তিরমিজি: ২৩৭৮)
বাস্তব জীবনেও দেখা যায়, মানুষের চিন্তা-ভাবনা, আচরণ ও অভ্যাসে তার বন্ধুদের প্রভাব পড়ে। ভালো বন্ধু মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে, অন্যদিকে খারাপ সঙ্গ অনেক সময় ভুল পথে পরিচালিত করে।
ইসলামের দৃষ্টিতে বন্ধুত্ব শুধু দুনিয়াবি সম্পর্ক নয়, এর প্রভাব আখেরাতেও পড়বে। তাই এমন বন্ধু নির্বাচন করা উচিত, যারা আল্লাহর আনুগত্য, নৈতিকতা ও ভালো কাজের পথে সহযোগিতা করে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, কেয়ামতের দিন অনেক মানুষ ভুল বন্ধুত্বের জন্য আফসোস করবে। আল্লাহ বলেন,
“সেদিন জালিম ব্যক্তি নিজের হাত কামড়াতে কামড়াতে বলবে, হায়! আমি যদি রাসুলের সঙ্গে পথ অবলম্বন করতাম! হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। সে তো আমার কাছে উপদেশ আসার পর আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল।”
(সুরা ফুরকান: ২৭-২৯)
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, “সেদিন বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হবে, তবে মুত্তাকিরা ছাড়া।”
(সুরা যুখরুফ: ৬৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহভীরু ও নেককার মানুষের বন্ধুত্ব আখেরাতেও কল্যাণের কারণ হবে। কিন্তু যারা পাপ ও অন্যায়ের পথে একে অপরকে সহযোগিতা করে, কেয়ামতের দিন সেই বন্ধুত্বই তাদের জন্য অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষ যাকে ভালোবাসে, সে তার সঙ্গেই থাকবে।” (সহিহ বুখারি: ৬১৬৯)
তাই বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে শুধু পার্থিব লাভ-ক্ষতি নয়, আখেরাতের সফলতার বিষয়টিও বিবেচনা করা জরুরি। এমন বন্ধু বেছে নেওয়া উচিত, যার সঙ্গ মানুষের ঈমান, চরিত্র ও জীবনকে সুন্দর করে তোলে।
ভালো বন্ধুত্ব হতে পারে দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের মুক্তির কারণ, আর ভুল বন্ধুত্ব হয়ে উঠতে পারে চিরস্থায়ী অনুতাপের কারণ।