জালিমের ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, শাস্তি অবধারিত

ইসলামে জুলুমকে সবচেয়ে গুরুতর অন্যায়ের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে, জালিম ব্যক্তি সাময়িকভাবে ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সম্পদের মালিক হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
হাদিসে এসেছে, মহান আল্লাহ জালিম এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের শাস্তি অনেক সময় দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। আখেরাতের শাস্তি তো রয়েছেই। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুলুম এবং বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়ার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। (মুসতাদরাকে হাকেম, তাবরানি)
তবে সব জালিম দুনিয়ায় দৃশ্যমান শাস্তি পায় না। কেউ হয়তো ক্ষমতার শীর্ষে থেকেই মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু তওবা ও সংশোধনের সুযোগ গ্রহণ না করে জুলুমের ওপর মৃত্যুবরণ করলে আখেরাতে তার জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
"জালিমরা যা করছে, আল্লাহকে সে বিষয়ে গাফেল মনে করো না। তিনি তাদের অবকাশ দিচ্ছেন সেই দিন পর্যন্ত, যেদিন তাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে থাকবে।"
(সুরা ইবরাহিম: ৪২-৪৩)
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন জালিমদের কোনো প্রকৃত বন্ধু বা এমন কোনো সুপারিশকারী থাকবে না, যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।
"জালিমদের কোনো বন্ধু থাকবে না এবং গ্রহণযোগ্য কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না।"
(সুরা গাফির: ১৮)
আখেরাতে জালিমদের শাস্তি কঠিন ও স্থায়ী হবে বলেও কোরআনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
"স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। তোমরা যা অর্জন করেছিলে, তারই প্রতিফল পাচ্ছ।"
(সুরা ইউনুস: ৫২)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,
"জালিমরা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তাদের শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং তাদের কোনো অবকাশও দেওয়া হবে না।"
(সুরা নাহল: ৮৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) জুলুম থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
"জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কারণ কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকার হয়ে মানুষের সামনে উপস্থিত হবে।"
(সহিহ মুসলিম)
আরেক হাদিসে তিনি সতর্ক করে বলেন,
"মজলুমের দোয়া থেকে বেঁচে থাকো, যদিও সে কাফের হয়। কারণ তার দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।"
(মুসনাদে আহমদ)
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন,
"আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি। তাই তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।"
(সহিহ মুসলিম)
ইসলামের শিক্ষা হলো, জালিমের সাময়িক ক্ষমতা বা প্রভাব দেখে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং জুলুম থেকে বিরত থাকাই একজন মুমিনের দায়িত্ব। কারণ দুনিয়ায় বিলম্ব হলেও আল্লাহর বিচারে কোনো জুলুমই অগোচরে থাকে না।