মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

সিজদা: বান্দার সর্বোচ্চ বিনয় ও আল্লাহর মহিমা স্বীকারের প্রতীক

সিজদা: বান্দার সর্বোচ্চ বিনয় ও আল্লাহর মহিমা স্বীকারের প্রতীক
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইসলামে সিজদা শুধু নামাজের একটি শারীরিক অবস্থান নয়; এটি আল্লাহর প্রতি বান্দার পরম আনুগত্য, বিনয় এবং আত্মসমর্পণের সর্বোচ্চ প্রকাশ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সিজদায় গিয়ে নিয়মিত পাঠ করতেন, ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’—অর্থাৎ, ‘আমি আমার সেই মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।’

আরবি ‘আল-আ’লা’ শব্দের অর্থ সর্বোচ্চ বা সবচেয়ে মহান। এর বিপরীত শব্দ ‘আল-আসফাল’, যার অর্থ সবচেয়ে নিচু বা সর্বনিম্ন। পবিত্র কোরআনে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তর বোঝাতে ‘আসফাল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবেই ইসলামী পরিভাষায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন অবস্থানের গভীর তাৎপর্য ফুটে ওঠে।

নামাজে সিজদার সময় মানুষ তার সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ—কপাল ও নাক—মাটিতে রেখে আল্লাহর সামনে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নত করে। এটি অহংকার, আত্মগরিমা ও দম্ভ ত্যাগ করে বিনয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রতীক। একজন বান্দা তখন নিজের ক্ষুদ্রতা উপলব্ধি করে একমাত্র আল্লাহর মহত্ত্ব স্বীকার করেন।

নামাজের শুরুতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা হয়। এরপর রুকু ও সিজদার মাধ্যমে মানুষ ধাপে ধাপে নিজেকে আরও বিনম্র করে তোলে। সিজদায় পৌঁছে বান্দা যেন নিজের অস্তিত্বকে সর্বনিম্ন অবস্থানে এনে ঘোষণা করেন—‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’।

এই ঘোষণার মাধ্যমে একজন মুমিন স্বীকার করেন, তিনি যতই নিজেকে নিচু করুন না কেন, আল্লাহ তাআলার মহিমা, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের তুলনায় তিনি অতি ক্ষুদ্র। তাই সিজদা কেবল একটি ইবাদতের অংশ নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ দাসত্ব, ভালোবাসা এবং আত্মসমর্পণের এক অনন্য প্রতীক।


সূত্র: মিজানুর রহমান আজহারীর বক্তব্য অবলম্বনে।
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ