শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু স্টয়নিসের ঝড়ে এক ওভারে ৫ ছক্কা, দুঃস্বপ্নের ম্যাচ ইয়ান হল্যান্ডের গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে, ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল চীন সফর শেষে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন না করতে নির্দেশ তারেক-শি বৈঠকে নতুন গতি, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা সই ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, জনবান্ধব সেবায় জোর সরকারের মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
  • আশুরার দিনের মর্যাদা কেন? ১০ মহররমের ফজিলত ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    আশুরার দিনের মর্যাদা কেন? ১০ মহররমের ফজিলত ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইসলিামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরা, মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যা হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের রোজার পর আশুরার রোজাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। (সহিহ বুখারি: ২০০৬)

    আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজার কারণে তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।” (সহিহ মুসলিম: ২৬১৭)

    কেন এত মর্যাদাপূর্ণ এই দিন?

    বিশুদ্ধ হাদিস অনুযায়ী, ১০ মহররম সেই দিন, যেদিন মহান আল্লাহ তাআলা নবী মুসা (আ.) এবং বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ে নবী মুসা (আ.) ওই দিন রোজা রাখতেন।

    মদিনায় হিজরতের পর রাসুল (সা.) দেখেন, ইহুদিরাও এই দিনে রোজা পালন করছে। কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, এ দিন আল্লাহ মুসা (আ.)-কে বিজয় দান করেছিলেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন, “মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তোমাদের চেয়ে আমরাই বেশি হকদার।” এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)

    প্রচলিত কিছু বর্ণনা সম্পর্কে সতর্কতা

    সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে আশুরার দিনে নবী আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়েছিল, নবী নুহ (আ.)-এর নৌকা নিরাপদে তীরে পৌঁছেছিল বা নবী ইবরাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে ইসলামী গবেষকদের মতে, এসব ঘটনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ হাদিস পাওয়া যায় না।

    কারবালার ঘটনা ও আশুরা

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের প্রায় ৫০ বছর পর ১০ মহররমে কারবালার প্রান্তরে তাঁর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটি এক গভীর শোকাবহ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

    মুসলমানরা এই দিনে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ ও সত্যের পক্ষে তাঁর অবিচল অবস্থানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে আশুরার রোজা ও ১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদা কারবালার ঘটনার কারণে নয়; বরং নবী মুসা (আ.)-এর মুক্তি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের কারণেই এই দিনের ফজিলত প্রতিষ্ঠিত।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ