বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটের ভোট, নতুন চাপে ট্রাম্প

যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটের ভোট, নতুন চাপে ট্রাম্প
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে মার্কিন সিনেট। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান বা যুদ্ধসংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে হলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি সিনেটে অনুমোদন পায়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও প্রস্তাবটি পাস হয়েছিল। ফলে যুদ্ধসংক্রান্ত এই উদ্যোগটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সমর্থন পেল।

সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও দলের চার সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র‍্যান্ড পল। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে অংশ নেননি।

প্রস্তাবটিতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সম্পৃক্ততা সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আসন্ন হামলা প্রতিরোধে সীমিত সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ব্যয়বহুল ও বিতর্কিত সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছে। তার মতে, এই নীতি আমেরিকান জনগণের জন্য বিভ্রান্তি, অনিশ্চয়তা এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।

তবে রিপাবলিকানদের একাংশ এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। আইডাহোর সিনেটর জেমস রিশের দাবি, এমন পদক্ষেপ চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করতে পারে এবং ইরানকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করবে।

যদিও কংগ্রেসের উভয় কক্ষে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে, তবুও এটি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারেন।

এদিকে রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। ফলে যুদ্ধ প্রশ্নে দেশটির জনমতও ক্রমশ বিভক্ত হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটের এই ভোট শুধু একটি আইনগত বা সাংবিধানিক বিতর্ক নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা, কংগ্রেসের ভূমিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা করেছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন