আদালতেই নির্ধারিত হবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: তথ্য উপদেষ্টা

গণতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জনপ্রিয়তা থাকলেই কোনো দল গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতি করতে পারবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, কয়েক দিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যা তিনি বহু বছর ধরে বলে আসছেন। তার মতে, রাষ্ট্র চাইলে আইসিটি বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের জন্য আবেদন করতে পারে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি দলকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে থাকতে হলে গণতন্ত্রের মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে জার্মানিতে ভোট পেয়েও একটি দলের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল প্রতীকী কারণে রাজপথে অবস্থান করছে। তবে সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও আওয়ামী লীগের বড় ধরনের কিছু করার সক্ষমতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি পালনের নৈতিক সাহস নেই এবং তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে জনসমর্থন ও নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। যদিও ছোটখাটো নাশকতার ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি এখনো আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো কর্মসূচি আইনবহির্ভূত হিসেবে গণ্য হবে এবং সে ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।