বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নার্স ও মিডওয়াইফ সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর এইচএসসি পরীক্ষা হবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, বন্যায় থাকছে বিকল্প ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী গাবতলী-মহাখালীসহ চার টার্মিনাল সরছে: মন্ত্রী নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে দেয় : এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন শুরু করতেই বগুড়ায় নানামুখী ষড়যন্ত্র : মীর শাহে আলম জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর, পাঠানো হলো কারাগারে জুবাইদা রহমানকে নিয়ে প্রশংসায় মঈন খান, বললেন ‘মহীয়সী নারী’ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা সামরিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : সেনাপ্রধান সাগর-রুনি হত্যা: প্রতিবেদন দাখিলে ফের ব্যর্থ পিবিআই দেশের ১৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
  • আরবরিকালচার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে বিতর্ক

    আরবরিকালচার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে বিতর্ক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) পদ্ধতির অপব্যবহার, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, বিভাগীয় সূত্র এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, স্বল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক সংখ্যক দরপত্র আহ্বান এবং প্রশাসনিক ফাইল নিষ্পত্তিতে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবির অভিযোগে বিভাগটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি—মাত্র তিনটি তারিখে ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগ থেকে মোট ৩৯টি উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) আহ্বান করা হয়।

    সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এত বিপুল সংখ্যক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একই সময়ে দেশের অন্যান্য বিভাগে এ ধরনের ব্যাপক আকারে ওটিএম দরপত্র আহ্বানের নজির খুব একটা পাওয়া যায়নি।

    তাদের মতে, বিষয়টি স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার প্রশ্নের পাশাপাশি দরপত্র ব্যবস্থাপনার নীতিগত দিক নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে কিছু দরপত্রে পূর্বনির্ধারিত সমঝোতা, দর নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

    যদিও এ ধরনের অভিযোগ এখনো কোনো সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—ওটিএম পদ্ধতির আড়ালে কারা সুবিধাভোগী হয়েছে এবং প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

    নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, বিভিন্ন প্রকল্পের বিল, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করা হয়।

    একাধিক ঠিকাদারের দাবি, নির্ধারিত কমিশন প্রদান না করলে ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাদের অভিযোগ, এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যাচ্ছে এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    কিছু ঠিকাদার অভিযোগ করেন, বিল অনুমোদনে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।

    জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক শর্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা শুধু একটি দপ্তরের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, বরং পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর জনআস্থাও কমিয়ে দেয়।

    তারা মনে করেন, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্প অনুমোদন ও বিল ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং এবং তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং সচেতন মহলের দাবি, ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের সাম্প্রতিক ওটিএম দরপত্র কার্যক্রম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।

    তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও দায়মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন