বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে পিএইচডি অর্জন করলেন তুরস্কের রুমেইসা

আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে পিএইচডি অর্জন করলেন তুরস্কের রুমেইসা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ফিলিস্তিনের পক্ষে মতামতধর্মী একটি নিবন্ধ লেখাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের তুর্কি শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়েছিলেন। তাকে বহিষ্কার ও ভিসা বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়। তবে তিনি পিছু হটেননি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে জয়ী হয়ে সফলভাবে নিজের পিএইচডি সম্পন্ন করেন এবং পরে তুরস্কে ফিরে যান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটির সূচনা হয় ২০২৪ সালের মার্চে, যখন রুমেইসা ওজতুর্কসহ চারজন শিক্ষার্থী টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের “টাফটস ডেইলি” পত্রিকায় একটি মতামতধর্মী লেখা প্রকাশ করেন। সেখানে তারা ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি কার্যক্রমকে “গণহত্যা” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে।

এর প্রায় এক বছর পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই নিবন্ধকে কেন্দ্র করে ওজতুর্কের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তোলে এবং তার স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে গত বছরের মার্চে ম্যাসাচুসেটস থেকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে আটক করে লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। চলতি মাসের শুরুতে রুমেইসা ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এর ফলে সরকার তার বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করে এবং তার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মর্যাদা পুনর্বহাল করা হয়।

রুমেইসা এক বিবৃতিতে বলেন, “১৩ বছরের কঠোর অধ্যবসায়ের পর আমি পিএইচডি সম্পন্ন করতে পেরে গর্বিত এবং নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ফিরতে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের কারণে যে সময় তিনি হারিয়েছেন, তা শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—যে শিশু ও তরুণদের জন্য তিনি কাজ করতে চান, তাদের ভবিষ্যতের জন্যও এটি একটি ক্ষতি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সপ্তাহে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে ফিরে যান এবং সেখানে শিশু অধ্যয়ন ও মানব উন্নয়ন বিষয়ে তার একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ম্যাসাচুসেটসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আইন পরিচালক জেসি রসম্যান বলেন, রুমেইসা একজন গবেষক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে মানবাধিকার ও শিশুদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন, আর সরকারের বিতর্কিত পদক্ষেপ তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে এক অভিবাসন বিচারক রায় দেন যে, তাকে বহিষ্কারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তবে পরবর্তীতে সেই বিচারককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, আদালতে উপস্থাপিত সরকারি নথিতে দেখা যায়, ওই মতামতধর্মী নিবন্ধ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলের মতো কোনো শক্ত প্রমাণ সরকারের কাছে ছিল না।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন