আইসিইউ শূন্য, রোগীর জীবন ঝুঁকিতে

রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটের কারণে ইউনিটগুলো কার্যত স্থবির। জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সের অভাবে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছে না।
হাম ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। কিন্তু ৪০ শয্যার আইসিইউও সরকারের অনুমোদনবিহীন এবং সীমিত জনবল নিয়ে চালানো হচ্ছে। অন্যান্য জেলা হাসপাতালের আইসিইউগুলো জনবল সংকটে কার্যকর নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০টি, বগুড়া ৮টি, সিরাজগঞ্জে ৬টি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও অর্ধেক শয্যা সচল। জয়পুরহাটে ২০২২ সালে তৈরি ১০টি আইসিইউ শয্যা জনবল সংকটে কার্যকর হয়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন, আইসিইউ পরিচালনার জন্য শুধু শয্যা ও যন্ত্রপাতি যথেষ্ট নয়। ক্রিটিক্যাল কেয়ার, অ্যানেস্থেসিওলজি বিশেষজ্ঞ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ছাড়া রোগীর জীবন সঠিক সময়ে রক্ষা করা সম্ভব নয়। ফলে রাজশাহীতে রোগীর চাপ বাড়ছে, প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫-২০ জন রোগী ওয়েটিং লিস্টে থাকে।
রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের হাসপাতালে আইসিইউ থাকলেও তা অচল থাকায় রোগীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাজশাহী পাঠাতে হয়। এই দূরত্ব ও পরিস্থিতি রোগী ও পরিবারের জন্য বিপজ্জনক।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে কার্যকর আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তবে বাস্তবে তা কখন সম্ভব হবে, তা স্পষ্ট নয়। আইসিইউ চালানোর জন্য প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ট্রেনিংপ্রাপ্ত নার্স এবং অনুমোদিত পদ। বর্তমান সংকট রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
শুধু শয্যা ও যন্ত্রপাতি কেনা যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষণ এবং যথাযথ প্রশাসনিক সমর্থন ছাড়া আইসিইউ কার্যকরভাবে চালানো সম্ভব নয়। রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকবে এবং জনগণের আস্থা হ্রাস পাবে।