আকিকা কি শুধু সপ্তম দিনেই? ইসলাম কী বলে

শিশুর আকিকা কি জন্মের সপ্তম দিনেই করতে হবে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সপ্তম দিনের পর আকিকা করলে তা আর আকিকা হিসেবে গণ্য হয় না, বরং সদকা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এই ধারণা সঠিক নয়।
ইসলামে শিশুর আকিকার সর্বোত্তম সময় হলো জন্মের সপ্তম দিন। তবে কোনো কারণে ওই দিনে আকিকা করা সম্ভব না হলে পরবর্তী সময়েও আকিকা করা বৈধ এবং তা আকিকা হিসেবেই আদায় হবে—সদকা হিসেবে নয়।
হাদিসে সপ্তম দিনের পরও আকিকা করার সুযোগ থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “সপ্তম দিনে আকিকা করবে। সপ্তম দিনে করা না গেলে চৌদ্দতম দিনে করবে, আর তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে করবে।” (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৬৯)
ফকিহদের মতে, সপ্তম দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে পরবর্তীতে যেকোনো দিন আকিকা করলেও তা আদায় হয়ে যাবে। তবে চেষ্টা করা উচিত, সপ্তম দিনের হিসাব অনুযায়ী একই বার বা তার কাছাকাছি সময়ে তা সম্পন্ন করা।
এছাড়া সপ্তম দিনের হিসাব নিয়েও অনেকের মধ্যে দ্বিধা থাকে। আলেমদের মতে, যদি শিশু রাতে জন্মগ্রহণ করে, তবে পরের দিন থেকে গণনা শুরু করে সপ্তম দিনে আকিকা করতে হবে। আর যদি দিনের বেলায় (ফজরের পর) জন্ম হয়, তবে সেই দিন থেকেই গণনা শুরু হবে।
আকিকা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করা হবে, নাম রাখা হবে এবং মাথা মুন্ডন করা হবে।” (সুনানে তিরমিজি: ১৫২২)
তিনি নিজেও তাঁর নাতি হাসান (রা.)-এর আকিকা করেছেন। (সুনানে তিরমিজি: ১৬০২)
হাদিস অনুযায়ী, পুত্রসন্তানের জন্য দুটি এবং কন্যাসন্তানের জন্য একটি পশু আকিকা করা সুন্নত। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) ও হজরত আবু হোরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় এ নির্দেশনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আকিকা সপ্তম দিনে করা উত্তম হলেও পরবর্তীতে যেকোনো সময় তা আদায় করা বৈধ। তাই ভুল ধারণা পরিহার করে সামর্থ্য অনুযায়ী আকিকা সম্পন্ন করাই উত্তম।