রাতের ঘুম, সক্রিয় মস্তিষ্ক ও স্বপ্ন—বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ

ঘুমন্ত অবস্থায় আমরা যে রঙিন বা বিচিত্র সব জগতের অভিজ্ঞতা লাভ করি, তাকেই আমরা স্বপ্ন বলি। হাজার বছর ধরে মানুষ স্বপ্নকে অতিপ্রাকৃতিক কিছু মনে করলেও আধুনিক বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। গবেষকদের মতে, স্বপ্ন দেখা কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি মানুষের মস্তিষ্কের একটি অত্যন্ত জটিল এবং অত্যাবশ্যকীয় জৈবিক প্রক্রিয়া।
আরইএম (REM) স্লিপ: স্বপ্নের মূল মঞ্চ
ঘুমের একটি বিশেষ পর্যায় রয়েছে যাকে বলা হয় 'র্যাপিড আই মুভমেন্ট' বা REM sleep। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পর্যায়ে মানুষের শরীর সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকলেও মস্তিষ্ক থাকে অত্যন্ত সক্রিয়। এই সময়ই মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখে। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, আরইএম পর্যায়ে মানুষের চোখের মণি দ্রুত নড়াচড়া করে এবং মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো জেগে থাকা অবস্থার মতোই কাজ করে।
মস্তিষ্কের স্মৃতি প্রক্রিয়াজাতকরণ
স্বপ্ন দেখার পেছনে বিজ্ঞানীদের প্রধান যুক্তি হলো স্মৃতির সংরক্ষণ। সারাদিন আমরা যা দেখি, শুনি বা অনুভব করি, রাতে ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সেই অভিজ্ঞতাগুলোকে ঝালাই করে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে জমা করা এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্যগুলো মুছে ফেলার প্রক্রিয়ার ফলেই আমরা বিভিন্ন দৃশ্য বা ঘটনার প্রতিচ্ছবি তথা স্বপ্ন দেখি।
মানসিক চাপ ও আবেগের ভারসাম্য
স্বপ্ন কেবল স্মৃতিই সাজায় না, এটি মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দিনের বেলা যেসব আবেগ বা দুশ্চিন্তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে মস্তিষ্ক সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে হালকা হওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া অনেক সময় অবচেতন মন স্বপ্নের মাধ্যমে নতুন কোনো সমস্যার সমাধান বা সৃজনশীল ধারণার জন্ম দেয়।
রহস্য কি পুরোপুরি উন্মোচিত?
স্বপ্ন নিয়ে গত কয়েক দশকে ব্যাপক গবেষণা হলেও এর সব রহস্য এখনো পুরোপুরি ভেদ করা সম্ভব হয়নি। কেন আমরা কিছু স্বপ্ন মনে রাখি আর কিছু ভুলে যাই, কিংবা কেন কিছু স্বপ্ন খুব বেশি অদ্ভুত হয়—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখনো নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন স্নায়ুবিজ্ঞানীরা। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত যে, সুস্থ মস্তিষ্ক এবং সৃজনশীল মনের জন্য স্বপ্ন দেখা একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া।
দৈএনকে/জে, আ