ঈদে সেলামি দেওয়া-নেওয়ার ইসলামী বিধান

রোজার ত্যাগ হৃদয়কে রঙিন করে এবং আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদও সেই আনন্দের উৎসব, যা নামাজের পর একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আরও বেড়ে যায়। এই প্রথা থেকেই জন্ম নেয় ঈদের সেলামি, যা ছোট ও বড়দের মধ্যে সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্মান সৃষ্টি করে।
ডাক্তারি বা হাদিসভিত্তিক কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম না থাকলেও, ছোটদের প্রতি স্নেহ এবং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন হলো সেলামির মূল উদ্দেশ্য। এটি ইসলামে জায়েজ এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ বৃদ্ধির একটি সুন্দর সামাজিক রীতি।
তবে সেলামির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—ঈদের সকালে বড়দের সালাম করা এবং সাহাবিদের সুন্নাহ অনুযায়ী একে অপরকে দোয়া বিনিময় করা। দোয়াটির মধ্যে রয়েছে প্রার্থনা: “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম”, অর্থ—“আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।”
পা ছুঁয়ে সালাম দেওয়া ইসলামি সংস্কৃতির পরিপন্থি। সাধারণত সালাম দেওয়া এবং দোয়া বিনিময় করাই সঠিক।
ঈদের দিনের সুন্নাহ:
সকালে গোসল করা
ভালো পোশাক পরিধান করা
নামাজে যাওয়ার আগে কিছু মিষ্টিজাতীয় (যেমন খেজুর) খাওয়া
নামাজের পর একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা
ঈদের সেলামি এবং শুভেচ্ছা মূলত আনন্দ ও সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধি করার জন্য, যা ইসলামের নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।