শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬
Natun Kagoj

বিশ্বকাপ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, মেক্সিকোতে ১ লাখ সদস্য মোতায়েন

বিশ্বকাপ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, মেক্সিকোতে ১ লাখ সদস্য মোতায়েন
ছবি: বিবিসি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকো। দেশটিতে চলমান মাদক কার্টেল সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ মেক্সিকোর তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। শহরগুলো হলো গুয়াদালাহারা, মেক্সিকো সিটি এবং মনতেরে। এর মধ্যে গুয়াদালাহারা শহরটি জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। সম্প্রতি সেখানে সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ১২ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্বকাপের খেলা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। তবে এখন পর্যন্ত মেক্সিকো সিটি ও মনতেরে শহর তুলনামূলকভাবে সহিংসতার বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশটির অন্যতম শক্তিশালী অপরাধী সংগঠন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল সম্প্রতি মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেনা অভিযানে সংগঠনটির নেতা ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস নিহত হওয়ার পর কার্টেল সদস্যরা সড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ড চালায়।

এল মেনচো মেক্সিকোর সবচেয়ে বেশি খোঁজা অপরাধীদের একজন ছিলেন। তাকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পরে সোমবার জাপোপান শহরের একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শুক্রবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বিশ্বকাপকে নিরাপদভাবে আয়োজনের জন্য বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ফিফা ও মেক্সিকো সরকার উভয়ই জানিয়েছে, চলমান সহিংসতা বিশ্বকাপ আয়োজনকে প্রভাবিত করবে না। তবে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী মেক্সিকোতে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেক্সিকোর এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্ল্যান কুকুলকান’, যা প্রাচীন মায়া সভ্যতার সর্পদেবতার নাম থেকে নেওয়া। এই পরিকল্পনার আওতায় আয়োজক শহর ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় মোট ৯৯ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বকাপ সমন্বয় কেন্দ্রের প্রধান রোমান ভিলালভাজো বারিয়োস।

এই নিরাপত্তা বাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার সেনা সদস্য, ৫৫ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা থাকবেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ সামরিক ও বেসামরিক যান, ২৪টি বিমান, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা এবং বিস্ফোরক শনাক্ত করতে প্রশিক্ষিত বিশেষ কুকুর মোতায়েন করা হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন