সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

তাবিজ ব্যবহার: জায়েজ নাকি শিরক? ইসলামিক বিধান কী বলে

তাবিজ ব্যবহার: জায়েজ নাকি শিরক? ইসলামিক বিধান কী বলে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইসলামে তাবিজের ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। তাবিজের মূল অর্থ হলো সুরক্ষা চাওয়া এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। শরীরে বা বস্তুতে আল্লাহর কালাম বা দোয়া লেখা হলে এটি বৈধ এবং জায়েজ হিসেবে বিবেচিত।

তাবিজ দুই প্রকার—শিরকি তাবিজ এবং জায়েজ তাবিজ। শিরকি তাবিজে কুফরি কালাম বা অশুদ্ধ প্রতীক থাকলে তা হারাম, কিন্তু কুরআন, হাদিস বা সঠিক অর্থবহ দোয়াসম্পন্ন তাবিজ জায়েজ। তাবিজের প্রকৃতি সম্পর্কে দ্বিধা থাকলে কোনো মুহাক্কিক আলেমের কাছে দেখানো উচিত।

ঐতিহাসিক প্রমাণ অনুযায়ী, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবিঈনে কেরাম তাবিজের বৈধ ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) তার সন্তানদের ঘুমানোর আগে أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ… দোয়া পড়ার শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের গলায় তা লিখে ঝুলাতেন। (সুনানে আবু দাউদ, ৩৮৯৫)

তাবিজ ব্যবহারের কিছু শর্ত আছে:

  • আল্লাহর হুকুম ও সাহায্য চাওয়ার উদ্দেশ্যে হতে হবে।
  • শিরকি বা কুফরি কালাম, অশুদ্ধ নকশা, কার্টুন বা কালো জাদু লেখা থাকা চলবে না।
  • শিশুদের জন্যও বৈধ, যদি তারা দোয়াটি নিজে পড়তে না পারে।

হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে, তাবিজ শিরক নয়, তবে তামীমা শিরক। ওমর (রা.) রোম সম্রাটকে তার মাথাব্যথার জন্য এমন একটি টুপি দিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম”, যা শিরক হিসেবে গণ্য হয়নি। (তাফসিরে কাবির, ১ম খন্ড)

কুরআন ও হাদিসের বাইরে কোনো লেখা তাবিজে ব্যবহার করা শিরক হিসেবে গণ্য হবে। তাই ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বৈধ তাবিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন