মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য দোয়া

মানুষের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই। অনেক সময় কঠোর পরিশ্রমের পরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা আসে। ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ ইবাদত বা ‘আমল’ মুমিনের হৃদয়ে যেমন প্রশান্তি আনে, তেমনি কঠিন কাজ সহজ করতে সাহায্য করে। সম্প্রতি মনের ইচ্ছা পূরণ ও বিপদ মুক্তির জন্য একটি পরীক্ষিত আমলের পদ্ধতি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
মূল দোয়া ও তাৎপর্য
আমলটির মূল ভিত্তি হলো একটি শক্তিশালী দোয়া:
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগীছ।
অর্থ: হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী রক্ষণকারী, আপনার রহমতের মাধ্যমে আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি।
এই দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠিন বিপদের সময় পাঠ করতেন বলে হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম— ‘হাই’ (চিরঞ্জীব) ও ‘কাইয়্যুম’ (চিরস্থায়ী)—ব্যবহার করে সাহায্য চাইলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
আমলের সঠিক পদ্ধতি
১. সালাতুল হাজত: প্রতিদিন যেকোনো সময় (মাকরুহ ওয়াক্ত বাদে) দুই রাকাত ‘সালাতুল হাজত’ বা বিশেষ প্রয়োজনের নামাজ আদায় করা।
২. জিকিরের সংখ্যা: সারা দিনে মোট ১০০০ (এক হাজার) বার উপরে উল্লিখিত দোয়াটি পাঠ করতে হবে।
৩. ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা: একবারে ১০০০ বার পাঠ করা সম্ভব না হলে সারাদিনে ভেঙে ভেঙে এই সংখ্যা পূর্ণ করা যাবে।
যেকোনো আমলের প্রধান শর্ত হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা। আমল চলাকালীন মনকে শান্ত রাখা এবং আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই উত্তম কিছু দান করবেন—এমন দৃঢ় আশা বজায় রাখা জরুরি। ইসলামি আলেমদের মতে, এই জিকির নিয়মিত করলে আল্লাহ তাআলা রহমতের দরজা খুলে দেন, মনের নেক মাকসুদ পূর্ণ করেন এবং অন্তরে প্রশান্তি দান করেন।
দৈএনকে/জে, আ