ব্রাহ্মণবাড়িয়া যমুনা হাসপাতালে রিসিপশনিস্ট তাসলিমার তাণ্ডব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের যুমনা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিভসনিস্ট তাসলিমা বেগমের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ফার্মেসীর মালিক ও তার ভাগিনাকে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৷
তাসলিমা বেগম যমুনা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিভসনে ৪ মাস যাবত কাজ করছেন৷ হাসপাতালের সাবেক এমডি জুলফিকার আলী তাকে চাকরি দিয়েছেন বিধায় তার প্রভাবে তাসলিমা হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়।
শনিবার (১৬ মে) যমুনা হাসপাতালের ভিতরের ফার্মেসির মালিক জামাল মিয়া ও তার ভাগিনা (অথয়) কে তাসলিমা বেগম থাপ্পড় মারেন৷ যা সম্পূর্ণ সিসিটিভিতে দেখা যায়৷
হাসপাতালের ফার্মেসীর মালিক জামাল মিয়া জানান, গত শনিবার সকাল ১০টার পর দোকানে মধ্যে একটি রোগীর ওষুধের বিল করার সময় বাহিরে চিল্লাচিল্লি করতেছিল হাসপাতালের স্টাফ জুয়েল, অথয় ও রিমা। এসময় রিসিপশন থেকে উঠে তাসলিমা তাদেরকে বলে তোরা আমার বিরুদ্ধে কি বলিস, তখন জুয়েল বলে তোমার নামে কিছু বলে থাকলে সিসিটিভির মধ্যে দেখ,এসময় অথয়কে থাপ্পড় মারেন তসলিমা। পরে আমি দোকান থেকে বের হয়ে ভাগিনাকে দোকানে পাঠিয়ে দেয় তারপর সবার সামনে আমাকেও থাপ্পড় মারেন।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের নির্দেশনায় যমুনা হাসপাতালে আগের কমিটি বিলুপ্ত করে জুলফিকার কে চেয়ারম্যান ও কাউসার মিয়াকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক করে নতুন ৩ সদস্যের কমিটি করে দেন৷ আগের কমিটিতে জুলফিকারের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ আছে৷ জুলফিকার এমডি থাকার সময়ে অন্যান্য মালিকরা কোন হিসাব পাইনি এমনকি হাসপাতালের সিসিটিভি তার তত্ত্বাবধানে থাকতো অন্যা মালিকদেরকে একসেস দেইনি। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের অর্থ আত্মসাৎ সহ নানান অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করেন৷ কমিটি করার পর থেকে তাসলিমাকে লেলিয়ে দিয়ে হাসপাতালে বিশৃঙ্খল তৈরি করেন জুলফিকার৷ হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ তাসলিমাকে দেন জুলফিকার৷ যা এডিট করে মিথ্যা ও অপপ্রচার হিসাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷
হাসপাতালের ব্যবস্থানা পরিচালক কাউসার মিয়া বলেন, গত চারমাস আগে তাসলিমাকে নিয়োগ দেন সাবেক এমডি জুলফিকার আলী৷ যে ঘটনাটি ঘটছে পরিকল্পিত ও সাজানো৷ জুলফিকারের মাধ্যমে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ চলে যায় এবং মেয়েটি তার মিথ্যা তথ্য লাগিয়ে ফেসবুক ছড়িয়ে দেন। সিসিটিভিতে দেখা গেছে হাসপাতালের ফার্মেসীর মালিককে ঘুশি ও থাপ্পড় মারেন৷ জুলফিকার এমডি থাকা সময়ে ১০/১২ লাখ টাকা চুরি করেছে কিন্তু আমরা শেয়ার হোল্ডাররা কোন লাভই পাইনি৷ সে আধিপত্য বিস্তার করতো৷ জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ভাই নতুন কমিটি করে দেওয়ার পর জুলফিকার চক্রান্ত শুরু করেন।
হাসপাতালের বর্তমান চেয়ারম্যান জুলফিকার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা৷ তারা আমাকে বাদ দিয়ে গোপনে দুই থেকে তিনটি মিটিং করেন। আমাকে জানানো হয়নি৷ আমি হাসপাতালের স্টাফ তাসলিমাকে নিয়ে কিছু করিনাই৷ সাংবাদিকরা আমার কাছ থেকে সিসিটিভির ফুটেজ নেন৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম একাধিকবার বসে হাসপাতালে ঝামেলা শেষ করে দেন। এসময় এডভোকেট রুমা, এডভোকেট জাকারিয়া, এডভোকেট মিনহাজ, এডভোকেট সানাউল্লাহ, ডা. মকবুল, ডা. আকতারসহ বিএনপির সকল নেতাকর্মীসহ ডাক্তারদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থেকে আমাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন৷
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে স্টাফ ও ফার্মেসির মালিকের সাথে ঝামেলা হয়েছিল৷ সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি৷ হাসপাতালে পক্ষ থেকে এবং ওই নারীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি৷ তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নিবো।