এলপি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট কমাল সরকার

সরকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনঃনির্ধারণ এবং ব্যাংক ঋণ ও এলসি (ক্রেডিট লেটার) খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এলপিজিকে ‘গ্রিনফুয়েল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ পাঠিয়েছে।
চিঠিতে প্রস্তাব করা হয়েছে:
আমদানিকৃত এলপিজির ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা।
স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত এলপিজির ভ্যাট ৭.৫ শতাংশে নামানো।
এলপিজি গ্যাসের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যা শিল্পখাত ও গৃহস্থালি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শীতকালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ হ্রাস এবং দেশের পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এলপিজির চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি, যার ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ ভোক্তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
প্রসঙ্গত, এলপিজি ব্যবসায়ীরা ৮ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। খুচরা পর্যায়ে কোনো দোকানেই সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক হোটেল বিকল্প উপায়ে রান্না চালু রেখেছে, কিন্তু সাধারণ বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভোক্তারা একপ্রকার জিম্মি পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাট কমানো ও ব্যাংক ঋণ প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে এলপিজি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে এবং ভোক্তাদের উপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। তবে এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।