বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি

নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তারা নতুন ব্যবসা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করেন, বেকারত্ব কমান এবং জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেন। অবকাঠামো হলো সেই ভিত্তি, যা ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন সুষ্ঠুভাবে সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য নতুন উদ্যোক্তার আগমন অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা নতুন পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ করেন, যা সুষম ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সফল উদ্যোক্তার মূল গুণ হলো নতুন কিছু করার আগ্রহ, ঝুঁকি গ্রহণের সাহস, কোম্পানি পরিচালনা ও হিসাব সংরক্ষণের দক্ষতা। বাংলাদেশে উদ্যোক্তার সম্ভাবনা উজ্জ্বল, কারণ এখানে ১৭ কোটি মানুষের বিশাল বাজার, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ উদ্যোক্তা আছেন, যার মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। সফল উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) খাতের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি খাত। উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনঃস্থাপন ছাড়া শিল্প ও কর্মসংস্থান চাঙ্গা করা অসম্ভব। নীতিগত সহায়তা ও নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম বলেন, উদ্যোক্তারা শুধুমাত্র কর্মসংস্থান তৈরি করেন না, বরং নতুন বাজার এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করেন। তবে দেশের দুর্বল অবকাঠামো, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সীমিত সহজলভ্য ঋণ তাদের পথ বাধাগ্রস্ত করছে।
বিশেষত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ, অপর্যাপ্ত সড়ক ও বন্দরের ব্যবস্থা উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যাহত করছে। এর ফলে পণ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে হলে, অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে (বিদ্যুৎ, গ্যাস, বন্দর আধুনিকীকরণ), ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সরল করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যকর করতে হবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য সহজলভ্য ঋণ বা ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সুযোগ বাড়াতে হবে।
শুধু উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করলেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাস্তবে রূপ নেবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে উদ্যোক্তাদের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, যাতে উৎপাদন বাড়ে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।