টেকনাফে নারী ও শিশুদের পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ, পাচারকারী আটক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার গহিন পাহাড়ি এলাকায় একটি মানবপাচারচক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একজন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ দল।
অভিযানের সময় পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দি রাখা নারী ও শিশুসহ ২৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা জানান
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযানে যাই। সেখানে একটি পাহাড়ি গুহায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ভুক্তভোগীদের। পাচারকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।”
তিনি আরও জানান
উদ্ধার হওয়া সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আটক মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ উপকূলে বিদেশে পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের টার্গেট করে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
মূল পয়েন্টসমূহ:
টেকনাফের গহিন পাহাড়ে যৌথ অভিযান
এক মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার
নারী ও শিশুসহ ২৫ জন ভুক্তভোগী উদ্ধার
পাচার প্রতিরোধে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর তৎপরতা
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর ২০২৫) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়– সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুকে আটক করে রাখা হয়েছে। এর ভিত্তিতে গতকাল দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের গোপন আস্তানা থেকে ২৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও দুই মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারচক্র উন্নত জীবনের প্রলোভন, উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস এবং কম খরচে বিদেশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়া পাঠানোর ফাঁদে ফেলে। তারা সাগরপথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল এবং মুক্তিপণের জন্য বন্দিদের নির্যাতন করতো।
আটক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।