নীল নদে ফেরাউনের শেষ মুহূর্ত: হাদিসে শিক্ষণীয় ঘটনা

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অহংকারী ও নিজেকে খোদা দাবি করা জালিম শাসক ফেরাউনের পতন হয়েছিল নীল নদের বিশাল জলরাশির অতলে। তবে সেই সলিল সমাধির অন্তিম মুহূর্তে এক বিস্ময়কর ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় বিভিন্ন সহিহ হাদিসে, যা মহান আল্লাহর অসীম রহমত ও জিবরাঈল (আ.)-এর আশঙ্কার এক অনন্য সংকেত বহন করে।
নীল নদের সেই ভয়াবহ মুহূর্ত
মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে যখন ফেরাউন বিশাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে, তখন তার দীর্ঘদিনের দম্ভ চূর্ণ হয়ে যায়। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে শেষ মুহূর্তে সে চিৎকার করে বলতে চেয়েছিল— "আমি বনী ইসরাঈল যে রবের প্রতি ইমান এনেছে, তাঁর ওপর ইমান আনলাম।" [সুরা ইউনুস: ৯০]। কিন্তু তার সেই তওবা বা ইমান পূর্ণ করার আগেই এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে।
জিবরাঈল (আ.)-এর ত্বরিৎ পদক্ষেপ
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (তিরমিজি: ৩১০৮), জিবরাঈল (আ.) সেই মুহূর্তে দ্রুত বেগে নেমে এসে সমুদ্রের তলদেশ থেকে কাদা নিয়ে ফেরাউনের মুখে গুঁজে দিতে শুরু করেন। এর পেছনে আল্লাহর কোনো পূর্ব নির্দেশ ছিল না, বরং এটি ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর ব্যক্তিগত গভীর উদ্বেগ ও ফেরাউনের প্রতি তীব্র ঘৃণা।
রহমতের সাগরে অবগাহনের আশঙ্কা
প্রশ্ন উঠতে পারে, জিবরাঈল (আ.) কেন এমনটি করেছিলেন? তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে, মহান আল্লাহ এতটাই দয়ালু ও পরম ক্ষমাশীল যে, ফেরাউনের মতো পাপিষ্ঠও যদি একবার খাঁটি মনে তওবা করে ফেলে, তবে হয়তো আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। জিবরাঈল (আ.) চাইছিলেন না যে ব্যক্তি নিজেকে সৃষ্টিকর্তা দাবি করে হাজারো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে, সে আল্লাহর রহমত লাভ করুক। তিনি চেয়েছিলেন তার তওবার বাক্যগুলো যেন মুখ দিয়ে উচ্চারিত হতে না পারে।
শিক্ষা: আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না
ফেরাউনের এই ঘটনা আমাদের এক বিশাল শিক্ষা দেয়। যে ব্যক্তি নিজেকে খোদা দাবি করেছিল, তাকেও ক্ষমা করার জন্য মহান আল্লাহর রহমতের দুয়ার খোলা ছিল—যতক্ষণ না তার প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল। এখান থেকেই প্রমাণিত হয় আল্লাহর রহমত কত বিশাল! আমরা সামান্য গুনাহ করে যারা নিরাশ হয়ে যাই, তাদের জন্য এটি একটি বড় বার্তা। আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে ফিরে আসার পথ কখনোই বন্ধ হয় না, যদি না মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্ত উপস্থিত হয়।
ফেরাউনের কাদা মাখা মুখ কেবল এক জালিমের পতন নয়, বরং এটি আল্লাহর অসীম দয়ার এক জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে আছে।
দৈএনকে/জে, আ