জুলাই থেকে ব্যবসায় বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)’র উদ্বোধনী তহবিল ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
গভর্নর বলেন, দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ যাত্রা শুরু করেছে।
৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণে ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর মুনাফার ১ শতাংশ থেকে এসেছে। এটি এককালীন নয়, বরং সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতের উদ্যোক্তারা অর্থায়ন সহায়তা পাবেন।
গভর্নর আরও জানান, ব্যাংকগুলোর এই বিনিয়োগের পাশাপাশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন দেবে।
বিএসআইসি চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, শুধু প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও (এসএমই) এই তহবিলের আওতায় আসবেন।
বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি আন্তঃলেনদেনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই বিকাশ, নগদ, রকেটসহ যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে লেনদেন করা যাবে।
ছোট দোকান থেকে বড় শপিংমল পর্যন্ত একই কিউআর কোড ব্যবহার করা যাবে। এতে লেনদেন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও ক্যাশলেস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিক্রেতাদের শুধু একটি কিউআর কোড ব্যবহার করতে হবে। ক্রেতা স্ক্যান করে পেমেন্ট করলে সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন যাবে এবং লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
যেকোনো ব্যাংকে সেভিংস, কারেন্ট বা এসএনডি হিসাব থাকলে বাংলা কিউআর কোড গ্রহণ করা যাবে। নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করলে ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে কিউআর কোড পাওয়া যাবে।
মাসিক লেনদেন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে এনআইডির কপি ও ছবি লাগবে। ১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এনআইডি, ছবি, টিন সার্টিফিকেট ও টিন রিটার্ন স্লিপ প্রয়োজন হবে।