ত্রিশের পরে মা হতে চাইলে যা জানা জরুরি

অনেকে মনে করেন, পিরিয়ড স্বাভাবিক থাকলে যে কোনো সময় তারা প্রজননক্ষম। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্রিশের দশকের শুরুতে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, যা ৩৫ বছর পর আরও লক্ষণীয় হয়।
ডিমের গুণমান এবং পরিমাণ
নারী একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বানু নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ডিম্বানুর পরিমাণ এবং স্বাস্থ্য হ্রাস পায়। অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (AMH) এর মতো ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ মার্কার স্বাভাবিকভাবেই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে। কম AMH স্তর মানে গর্ভধারণের জন্য উপলব্ধ ডিম্বানুর সংখ্যা কম। যদিও এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, তবে অনেক নারী বুঝতে পারেন না যে এটি ধীরে ধীরে ঘটছে।
ফার্টিলিটি কমে যাওয়ার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দিকগুলোর মধ্যে একটি হলো এটি বেশিরভাগ সময় নীরব থাকে। লক্ষণগুলো সাধারণত উপসর্গবিহীন থাকে। মাসিক নিয়মিত থাকতে পারে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অনেক নারী কিছু সময় ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করার পরেই কেবল কম প্রজনন ক্ষমতা আবিষ্কার করেন। বয়স বৃদ্ধি ডিম্বাণুর জিনগত ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। এর অর্থ হলো বয়স্ক ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম অস্বাভাবিকতা থাকার সম্ভাবনা বেশি, যা ভ্রূণের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩৫ বছরের পরে গর্ভাবস্থা অসম্ভব নয়। অনেক নারী স্বাভাবিকভাবেই অথবা চিকিৎসা সহায়তায় তাদের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে এবং এমনকী তার পরেও সন্তান জন্ম দেন। নারীকে নিজের শরীরের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানতে হবে। নারী ফার্টিলিটি এবং বয়স সম্পর্কে জানলে তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, সম্পর্ক এবং পারিবারিক লক্ষ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যায়।
ফার্টিলিটি পরীক্ষার গুরুত্ব
এএমএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ পরীক্ষা হয়। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে অ্যান্ট্রাল ফলিকল কাউন্ট (এএফসি) পরীক্ষা করা হয়, যা ডিম্বাশয়ে বিকাশমান ফলিকলের সংখ্যা অনুমান করে। এই ধরনের পরীক্ষা গর্ভাবস্থার সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনা নির্দিষ্ট করতে পারে না, তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে তারা কতটা উর্বর হবে তার একটি ভালো ধারণা দেয়।