বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

গর্ভধারণের আগে এবং গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে আশ্চর্য পরিবর্তন

গর্ভধারণের আগে এবং গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে আশ্চর্য পরিবর্তন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

গর্ভধারণ একজন নারীর জীবনের এমন এক বিস্ময়কর অধ্যায়, যা কেবল মানসিকভাবে নয়, বরং শারীরিকভাবেও আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। গর্ভাবস্থার আগেও শরীর নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করে এবং গর্ভাবস্থায় প্রতিটি অঙ্গে ঘটে অভাবনীয় পরিবর্তন।

নিচে এই আশ্চর্য পরিবর্তনগুলোকে কয়েকটি ধাপে তুলে ধরা হলো:

১. গর্ভধারণের আগের প্রস্তুতি (Pre-conception)
গর্ভধারণের আগে একজন নারীর শরীর প্রতি মাসে নিজেকে তৈরি করে।

  • হরমোনের খেলা: ডিম্বস্ফোটনের (Ovulation) সময় শরীরে এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা জরায়ুর আস্তরণকে নরম ও পুষ্টিকর করে তোলে।
  • শারীরিক ইঙ্গিত: এ সময় নারীর ঘ্রাণশক্তি বা স্বাদের সামান্য পরিবর্তন হতে পারে এবং শরীরের তাপমাত্রা (Basal Body Temperature) সামান্য বৃদ্ধি পায়।

২. গর্ভাবস্থায় অভ্যন্তরীণ অঙ্গের স্থান পরিবর্তন
সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় হলো, জরায়ুতে শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে মায়ের পেটের ভেতরের অন্যান্য অঙ্গগুলো নিজেদের জায়গা ছেড়ে দেয়।

  • সংকোচন: পাকস্থলী, লিভার এবং অন্ত্রগুলো ওপরের দিকে বা দুই পাশে সরে যায়। এর ফলে গর্ভবতী মায়েদের বুক জ্বালাপোড়া বা হজমে সমস্যা হতে পারে।
  • ফুসফুস ও হার্ট: ফুসফুসের জায়গা কমে আসায় শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে হৃদপিণ্ডের আকার সামান্য বেড়ে যায়।

৩. রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি
গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে রক্তের পরিমাণ প্রায় ৩০% থেকে ৫০% বৃদ্ধি পায়। এটি শিশুর পুষ্টি ও অক্সিজেন নিশ্চিত করার জন্য হয়। এই অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালনের কারণে গর্ভবতী নারীর চেহারায় এক ধরণের আভা দেখা দেয়, যাকে আমরা ‘প্রেগন্যান্সি গ্লো’ (Pregnancy Glow) বলি।

৪. মস্তিষ্কের পরিবর্তন (Mommy Brain)
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় নারীর মস্তিষ্কের ‘গ্রে ম্যাটার’ (Gray matter) কিছুটা সংকুচিত হয়। এটি কিন্তু স্মৃতিশক্তি কমার জন্য নয়, বরং মা ও শিশুর মধ্যে এক গভীর আত্মিক বন্ধন বা ‘বন্ডিং’ তৈরির জন্য মস্তিষ্ক নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নেয়। একে বলা হয় প্রসব-পূর্ব মস্তিষ্ক পুনর্গঠন।

৫. ত্বক ও চুলের পরিবর্তন

  • হরমোনের প্রভাব: অনেকের চুল আগের চেয়ে ঘন ও উজ্জ্বল হয়ে যায়। তবে পেটে বা উরুতে ‘স্ট্রেচ মার্কস’ দেখা দিতে পারে।
  • মেলানিন: হরমোনের আধিক্যের কারণে মুখমণ্ডল বা পেটের মাঝখানের চামড়া কিছুটা কালো হয়ে যেতে পারে (যাকে 'লিনিয়া নাইগ্রা' বলা হয়), যা সন্তান প্রসবের পর আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

৬. হাড় ও লিগামেন্টের নমনীয়তা
প্রসবের পথ সহজ করতে শরীর ‘রিল্যাক্সিন’ (Relaxin) নামক একটি হরমোন নিঃসরণ করে। এটি শরীরের হাড়ের জোড় বা লিগামেন্টগুলোকে নরম ও নমনীয় করে তোলে। এর ফলে অনেক সময় গর্ভবতী নারীদের হাঁটতে গেলে ভারসাম্যহীন মনে হতে পারে।

  • একটি মজার তথ্য: গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী নারীর হৃদপিণ্ড স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করে এবং শরীরের প্রায় প্রতিটি কোষ এই নতুন প্রাণের জন্য কাজ করতে থাকে।

প্রকৃতির এই বিবর্তন একজন নারীকে নতুন জীবন দান করার এক অসীম শক্তি প্রদান করে।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন