বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • আপনার শিশুর প্রিয় ‘মিষ্টি’ কি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা?

    আপনার শিশুর প্রিয় ‘মিষ্টি’ কি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা?
    এ আই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শিশুকে খুশি করতে হাতে একটি চকলেট বা ক্যান্ডি তুলে দেওয়া অনেক বাবা-মায়ের কাছেই খুব সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু এই সাময়িক খুশি কি দীর্ঘমেয়াদী কোনো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চিনি কেবল দাঁতের ক্ষয় নয়, বরং বাড়ন্ত শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও আচরণের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশুর মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

    চিনির প্রভাবে মস্তিষ্কে যা ঘটে

    শিশুর মস্তিষ্ক যখন দ্রুত বিকশিত হয়, তখন রক্তে গ্লুকোজের অস্বাভাবিক ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলে তার স্নায়ুতন্ত্রে। গবেষণায় উঠে আসা পাঁচটি প্রধান ঝুঁকির দিক হলো:

    ১. মনোযোগের বিচ্যুতি: অতিরিক্ত চিনি খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে আবার হুট করে কমে যায়। এতে শিশু মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

    ২. মানসিক অস্থিরতা ও মেজাজ: চিনি খাওয়ার পর অনেক শিশু অতি-সক্রিয় (Hyperactive) হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে খিটখিটে মেজাজ বা খিটখিটে আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

    ৩. স্মৃতিশক্তির হ্রাস: নিয়মিত উচ্চমাত্রার চিনি গ্রহণ মস্তিষ্কের সেই অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে যা স্মৃতি এবং শেখার সাথে জড়িত।

    ৪. শরীরে প্রদাহ: চিনি দীর্ঘমেয়াদে শরীরে প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে।

    ৫. ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি: ছোটবেলার চিনির আসক্তি বড় হয়েও থেকে যায়, যা স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

    অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

    চিনি সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, তবে এর ব্যবহার সীমিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

    • প্রাকৃতিক মিষ্টিতে গুরুত্ব: কৃত্রিম ক্যান্ডি বা প্যাকেটজাত জুসের পরিবর্তে শিশুকে তাজা ফলমূল খেতে দিন। ফলের ফাইবারে থাকা চিনি রক্তে ধীরে শোষিত হয়।

    • সুষম খাদ্য তালিকা: কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন (যেমন: বাদাম, ডিম) যুক্ত করুন। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখে।

    • প্যাকেটজাত খাবার বর্জন: প্যাকেটজাত সিরিয়াল বা সফট ড্রিংকসে প্রচুর পরিমাণে 'লুকানো চিনি' থাকে। কেনার আগে লেবেল দেখে নিন।

    • পর্যাপ্ত পানি পান: শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পান করান, কারণ পানির অভাবও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

    • খাবারের সময় ঠিক রাখা: নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্টিকর খাবার দিলে শিশুর এনার্জি লেভেল সারাদিন একই রকম থাকে।

    পুষ্টি গবেষকদের মতে, ছোটবেলার এই খাদ্যাভ্যাসই নির্ধারণ করে ভবিষ্যতে আপনার সন্তান কতটা মেধাবী ও সুস্থ হবে। তাই আজ থেকেই চিনির লাগাম টেনে ধরার সময় এসেছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ