শিশুর শ্বাসকষ্টে সতর্ক হোন, হতে পারে অ্যাডেনয়েড বৃদ্ধি

আপনার শিশু কি রাতে ঘুমানোর সময় নাক ডাকে? কিংবা সবসময় মুখ হাঁ করে শ্বাস নেয়? তবে একে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে ভুল করবেন না। নাক ও গলার সংযোগস্থলে থাকা ‘অ্যাডেনয়েড’ নামক টিস্যু বড় হয়ে যাওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা না করলে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চিরতরে বদলে যেতে পারে তার চেহারার গঠন।
অ্যাডেনয়েড আসলে কী?
অ্যাডেনয়েড হলো নাকের ঠিক পেছনে অবস্থিত এক ধরণের লিম্ফয়েড টিস্যু, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ। তবে বারবার সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কারণে এটি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেলে শিশুর স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন (Checklist):
বিশেষজ্ঞরা শিশুদের মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন:
- রাতের উপসর্গ: উচ্চস্বরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা (Sleep Apnea) বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।
- শারীরিক গঠন: লম্বাটে মুখ বা ‘অ্যাডেনয়েড ফেসিজ’ (Adenoid Facies), যেখানে ওপরের পাটির দাঁত উঁচু হয়ে যায় এবং মুখ সবসময় হাঁ করা থাকে।
- বাচনিক সমস্যা: কথা বলার সময় নাকী স্বর হওয়া এবং খাবার গিলতে অসুবিধা বোধ করা।
- মানসিক প্রভাব: দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব এবং পড়াশোনায় মনোযোগের চরম ঘাটতি।
- কানের জটিলতা: কানে বারবার পানি জমা (Otitis Media) এবং শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া।
দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি
নাক বন্ধ থাকার কারণে শিশুরা বাধ্য হয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাসের ফলে শিশুর চোয়াল ও দাঁতের গঠন স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
যদি শিশুর নাক ডাকা খুব বেশি হয়, ঘুমের মধ্যে শ্বাস নেওয়ার বিরতি দেখা দেয় অথবা বারবার কান ও গলার সংক্রমণে ভোগে—তবে দেরি না করে একজন নাক-কান-গলা (ENT) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
আধুনিক চিকিৎসা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় ন্যাজাল স্প্রে বা বিশেষ ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে যদি সমস্যা প্রকট হয় এবং ওষুধের মাধ্যমে নিরাময় না হয়, সেক্ষেত্রে ‘অ্যাডেনয়েডেকটমি’ বা ছোট একটি অপারেশনের মাধ্যমে এই বাড়তি টিস্যু ফেলে দিতে হয়। বর্তমান উন্নত প্রযুক্তিতে এই অপারেশন অত্যন্ত নিরাপদ এবং শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
দৈএনকে/জে, আ