বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

কিশোরদের ঘুমের ঘড়ি: সকাল ৭টায় স্কুল মানসিক চাপ বাড়ায়

কিশোরদের ঘুমের ঘড়ি: সকাল ৭টায় স্কুল মানসিক চাপ বাড়ায়
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বিশ্বব্যাপী গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কিশোর-কিশোরীদের শরীর এবং মস্তিষ্ক প্রাপ্তবয়স্কদের মতো কাজ করে না। বিশেষ করে সকাল খুব তাড়াতাড়ি স্কুলে যাওয়া তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।

কিশোরদের ঘুম ও জৈবিক ঘড়ি

  • কিশোরদের শরীরে ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে নিঃসৃত হয়।

  • ফলে, রাত ১০টায় ঘুমতে যাওয়া অভিভাবকের জন্য স্বাভাবিক হলেও কিশোরদের ঘুম রাত ১২টার দিকে আসে।

  • এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় সারকাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ি।

সকালের সময় খুব তাড়াতাড়ি উঠলে প্রভাব

  • সকাল ৭টায় স্কুল শুরু হওয়া কিশোরদের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের সকাল ৪টার সমান মানসিক চাপ তৈরি করে।

  • ঘুমের অভাবে দেখা যায়:

    • মনোযোগের অভাব

    • খিটখিটে মেজাজ

    • দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা

    • পরিবারের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন

গবেষণামূলক উদাহরণ

  • সিয়াটলে ২০১৮ সালে স্কুল শুরুর সময় সকাল ৭:৫০ থেকে ৮:৪৫ করা হয়।

  • মাত্র ৫৫ মিনিটের পার্থক্যে শিক্ষার্থীরা প্রতি রাতে ৩৪ মিনিট বেশি ঘুম পেয়েছিল।

  • ফলাফল: আত্মহত্যার চিন্তা ও বিষণ্নতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য

  • পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দেখা যায়:

    • অসুস্থতা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস

    • জাঙ্ক ফুডে নির্ভরতা বৃদ্ধি

    • ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতার ঝুঁকি

  • দেরিতে স্কুল শুরু করলে ঘুম, খাবার এবং সুস্থ রুটিন ঠিক থাকে।

শিক্ষা ও একাডেমিক ফলাফল

  • সতেজ মস্তিষ্ক অল্প সময়ে অনেক বেশি শিখতে সক্ষম।

  • দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে:

    • সকাল ৮:৩০ পরে শুরু হওয়া স্কুলে গণিত ও ইংরেজিতে গ্রেড বৃদ্ধি

    • শিক্ষার্থীরা শেষ পিরিয়ডেও বেশি সজাগ থাকে

    • স্নাতক সম্পন্নের হার বৃদ্ধি পায়

বিশ্বব্যাপী উদাহরণ

  • ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন পাস:

    • হাই স্কুল সকাল ৮:৩০ এর আগে শুরু করা যাবে না

    • মিডল স্কুল সকাল ৮:০০ এর আগে শুরু করা যাবে না

  • নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ম্যাসাচুসেটসও একই পথে হাঁটছে।

  • আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স, সিডিসি ও মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সবাই স্কুল সকাল ৮:৩০ এর আগে শুরু না করার সুপারিশ করেছে।

সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

  • বাস সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করতে হবে।

  • খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রমের সময় সামঞ্জস্য করতে হবে।

  • অভিভাবকরা নতুন রুটিনে মানিয়ে নিতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সক্ষম।

  • ‘টিয়ারড বাস শিডিউলিং’ ব্যবস্থায় খরচ কমানো সম্ভব।

উপসংহার

  • পর্যাপ্ত ঘুম কিশোরদের সবচেয়ে বড় ‘ওষুধ’।

  • স্কুল শুরুর সময় সামঞ্জস্য করলে শিক্ষার্থীরা সুস্থ, সতেজ ও মনোযোগী হবে।

  • একাডেমিক ফলাফল, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতা উন্নত হবে।

  • শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সিলেবাস শেষ করা নয়; সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়াই মূল লক্ষ্য।

পরিবর্তনের সময় এসেছে—আমাদের সন্তানদের ঘুমের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এখন জরুরি।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন