স্মার্ট চশমা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তায় নতুন শঙ্কা

গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ক্যামেরা ও এআই সমর্থিত স্মার্ট গ্যাজেটের ক্ষেত্রে। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে প্রশ্ন, স্মার্ট চশমা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত কি অজান্তেই অন্য কারো হাতে পৌঁছে যাচ্ছে?
সুইডেনের দুটি সংবাদমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটা প্ল্যাটফর্মসের তৈরি রে-বান মেটা স্মার্ট গ্লাসেস ব্যবহারকারীদের ভিডিও ফুটেজ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। কেনিয়ার নাইরবিতে অবস্থিত একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই ফুটেজ দেখছেন। প্রতিষ্ঠানটির ‘ডাটা অ্যানোটেটর’রা ভিডিও থেকে বস্তু, কার্যকলাপ বা দৃশ্য চিহ্নিত করেন, যা এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ফুটেজগুলোর মধ্যে অনেক সময় ব্যবহারকারীর অত্যন্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তও থাকে। কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক তথ্যও ভিডিওতে ধরা পড়তে পারে। একজন কর্মী গোপন পরিচয়ে জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীরা সচেতন না হলে বুঝতেই পারবেন না যে তাদের ডিভাইস থেকে ধারণকৃত ফুটেজ অন্য মানুষের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মেটা প্ল্যাটফর্মস জানায়, তাদের গোপনীয়তা নীতি অনুযায়ী কিছু তথ্য মানুষের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হতে পারে, যা এআই প্রযুক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তব ডাটা ব্যবহার প্রয়োজন হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি।
বিশ্বজুড়ে স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ, তা এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে। স্মার্ট চশমা কি শুধুই আধুনিকতার প্রতীক, নাকি অজান্তেই ব্যক্তিগত জীবনের গোপন তথ্য ফাঁস করছে—এ বিষয়টি প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।