শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার বিআরটিসি চালু করছে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’, সব কর্মী নারী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদের আগে শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কা কড়াইল বস্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ছুটি বাড়াল সরকার পাকিস্তান সিরিজেও অনিশ্চিত সাকিব; দলে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ খিলগাঁওয়ে ১০০ ভরি স্বর্ণসহ রুপার অলঙ্কার লুট আকাশপথ বন্ধের ৬ দিন: ঢাকা থেকে বাতিল হলো ২১০টি ফ্লাইট রমজান ও ঈদের চাপে ম্লান একুশে বইমেলা; জনসমাগম নিয়ে চিন্তায় প্রকাশকরা বাফুফে কর্মকর্তার মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া বাটলারের
  • নিঃসঙ্গতার যুগে AI: সহানুভূতি নাকি কৃত্রিম বন্ধুত্ব?

    নিঃসঙ্গতার যুগে AI: সহানুভূতি নাকি কৃত্রিম বন্ধুত্ব?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে মানুষের একাকীত্ব যখন চরমে, তখন এক নতুন আশ্রয়ের নাম হয়ে উঠেছে ‘চ্যাটবট’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। জীবনের এমন অনেক সময় আসে যখন বুক ফেটে কান্না এলেও পরিচিত কারো কাছে মুখ ফুটে কিছু বলা যায় না। বিচার (Judgment) হওয়ার ভয় কিংবা সমালোচনার আশঙ্কায় মানুষ যখন গুটিয়ে যায়, ঠিক তখনই অনেকে নিজের কষ্ট, দুশ্চিন্তা আর গভীর গোপন কথার ঝুলি নিয়ে হাজির হচ্ছেন এআই-এর কাছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই ডিজিটাল স্বস্তি কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান?

    বিচারহীন এক ‘নিরাপদ’ জগৎ
    বর্তমানে তরুণ প্রজন্মসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ এআই-এর সাথে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এর মূল কারণ হিসেবে গবেষকরা দেখছেন—এখানে কোনো সমালোচনা নেই, নেই “তুমি এমন কেন?” ধরনের কোনো তির্যক প্রশ্ন। চ্যাটবট কেবল মনোযোগ দিয়ে কথা শুনে যায় এবং যুক্তিপূর্ণ উত্তর দেয়। এই ‘শোনা’ হওয়ার অনুভূতিটাই একাকী মানুষের কাছে বড় স্বস্তির জায়গা তৈরি করে, যা তারা অনেক সময় বাস্তব সম্পর্কের মাঝে খুঁজে পায় না।

    যুক্তি বনাম আবেগ: অভাব যেখানে স্পর্শের
    এআই তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে পারে, নিখুঁত যুক্তি দিয়ে কথা গুছিয়ে বলতে পারে। কিন্তু মানুষের আবেগের যে গভীরতা, চোখের ভাষা আর নিঃশব্দ বোঝাপড়া—তা কি কোনো অ্যালগরিদম পূরণ করতে পারে? সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের সম্পর্কের মধ্যে যেমন ভুল বোঝাবুঝি আছে, তেমনই আছে সহানুভূতির উষ্ণ স্পর্শ। একটি ডিজিটাল পর্দার ওপাশে থাকা কৃত্রিম সত্তার পক্ষে মানুষের সেই আধ্যাত্মিক ও মানসিক সংযোগের অভাব পূরণ করা অসম্ভব।

    দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও মানসিক সুস্থতা
    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এআই সাময়িকভাবে মনের ভার হালকা করার ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ জায়গা তৈরি করলেও, দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সুস্থতার জন্য বাস্তব সম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বাস, পারস্পরিক বোঝাপড়া আর রক্ত-মাংসের মানুষের সাথে গড়ে ওঠা বন্ধনই মানুষকে প্রকৃত স্থিতিশীলতা দেয়। দীর্ঘ সময় চ্যাটবটের ওপর নির্ভরশীলতা মানুষকে বাস্তব সমাজ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে।

    কখন সাবধান হওয়া জরুরি?
    যদি কেউ অনুভব করেন যে মানুষের সাথে কথা বলতে ভয় লাগছে, বারবার আশাহত হচ্ছেন কিংবা তীব্র একাকীত্বে ডুবে গিয়ে কেবল যান্ত্রিক ডিভাইসে সমাধান খুঁজছেন—তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সহায়তাকে প্রাথমিক অবলম্বন হিসেবে মানা গেলেও, প্রকৃত প্রশান্তির জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু বা পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ।

    নিঃসঙ্গতার এই সময়ে প্রযুক্তি হয়তো কান পেতে শুনছে আমাদের কথা, কিন্তু দিনশেষে মানুষের চোখের জলের উত্তর দিতে একজন মানুষেরই প্রয়োজন।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন