এআই প্রযুক্তিতে বাড়ছে নজরদারি, সেলফি শেয়ারে বাড়তি ঝুঁকি

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সাধারণ সেলফি শেয়ার করাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে একটি ছবি থেকেই ব্যক্তির অবস্থানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য অনুমান করা সম্ভব।
সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই শীর্ষ সম্মেলনে গোপনীয়তা, কর্মসংস্থান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সেখানে ‘জিওস্পাই এআই’ নামের একটি প্রযুক্তি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। এই টুলটি ছবির মেটাডাটা বা এক্সআইএফ তথ্য ছাড়াই কেবল ছবির ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে।
জিওস্পাই এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা পুলনম সোনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি সাধারণ সেলফিও কারও বাড়ি বা অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হতে পারে, অথচ অধিকাংশ মানুষ এ ধরনের প্রযুক্তির বিষয়ে সচেতন নন।
প্রযুক্তিটি ছবিতে থাকা বাড়ির ধরন, রাস্তার গঠন, গাছপালা, মাটির রং ও আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অবস্থান অনুমান করে। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই টুলটি মূলত সরকারি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহারের জন্য তৈরি।
জিওস্পাই এআই দাবি করেছে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ১ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান নির্ধারণ করতে সক্ষম। সমর্থিত শহরগুলোতে মিটার-স্তরের নির্ভুলতাও পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্তকাজে এটি ব্যবহার করছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি অপরাধ দমনে সহায়ক হলেও সাধারণ মানুষের গোপনীয়তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ছবি শুধু স্মৃতি নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্যের উৎসেও পরিণত হতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সামাজিক মাধ্যমে কোনো ছবি পোস্ট করার আগে ভালোভাবে ভাবা উচিত। একটি সেলফি মুহূর্তের আনন্দ দিলেও, তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।