রমজান ও ঈদের চাপে ম্লান একুশে বইমেলা; জনসমাগম নিয়ে চিন্তায় প্রকাশকরা

রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা চলছে। সাহিত্যপ্রেমীদের এই বড় আয়োজন ঘিরে প্রতি বছরই থাকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তবে এবারের মেলায় এখনো সেই প্রাণচাঞ্চল্য পুরোপুরি ফিরে আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ স্টলে দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক বিক্রেতাকে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। কেউ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত, কেউবা সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করছেন। ক্রেতা কম থাকায় অনেক স্টলেই দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বিক্রি হচ্ছে না।
প্রকাশনা সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে মানুষের কেনাকাটার ধরণে পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই এখন মার্কেট ও শপিংমলমুখী হচ্ছেন। ফলে বইমেলায় আগের মতো ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না।
মুক্তধারা প্রকাশনীর একজন বিক্রয়কর্মী জানান, অনেকে মেলায় ঘুরতে আসছেন ঠিকই, কিন্তু বই কেনার প্রবণতা কম। দর্শনার্থীরা স্টলে এসে বই দেখছেন, ছবি তুলছেন, আবার চলে যাচ্ছেন। ফলে বিক্রি খুবই সীমিত।
অনুপ্রাণন প্রকাশনীর আরেক বিক্রেতা বলেন, রমজান মাসের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও অনেক কমে গেছে। আগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে মেলায় আসতো। এবার সেই দৃশ্য তেমন দেখা যাচ্ছে না। এতে করে বই বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
শিকড় প্রকাশনীর একজন বিক্রেতা জানান, সাধারণত অনেক পাঠক শখ করে হলেও অন্তত একটি বা দুটি বই কিনে থাকেন। কিন্তু এবার সেই ক্রেতার সংখ্যাও কম। অনেকেই স্টলে এসে বই উল্টেপাল্টে দেখছেন, তবে কিনছেন না।
অন্যদিকে মেলায় আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, তারা পরিবার নিয়ে ইফতারের আগে সময় কাটাতে বইমেলায় এসেছেন। তবে ঈদের কেনাকাটার জন্য বাজেটের বড় অংশ বরাদ্দ থাকায় বই কেনা আপাতত কমিয়ে দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, রমজানের শেষভাগে এবং ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। তখন বই বিক্রিও কিছুটা বাড়বে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা।