রাতের আকাশে বিরল চমক: চাঁদের আলোয় তৈরি মুনবো রংধনু

রাতের আকাশে চাঁদের আলোয় তৈরি হওয়া বিরল রংধনু বা মুনবো সম্প্রতি বিজ্ঞানপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দিন ও রাতের রেইনবোর মধ্যে মূল পার্থক্য আলোর উৎস—দিনে সূর্য, রাতে চাঁদ। মুনবো দেখতে হলে পূর্ণিমার রাত, পরিষ্কার অন্ধকার আকাশ এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিজল বা কুয়াশা থাকা আবশ্যক।
এক অপার বিস্ময় মুনবো সমাচার:---
রাতের আকাশে চাঁদের আলোয় সৃষ্টি হওয়া রংধনু—মুনবো—একটি চমৎকার ও বিরল অপটিক্যাল বৈজ্ঞানিক ঘটনা। এটি কিভাবে তৈরি হয়, কেন এটি এত কম দেখা যায়, এবং মানব চোখে কেন এর রং দেখা যায় না—এসব বিষয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক উপস্থাপন নিচে দেয়া হলো
কীভাবে মুনবো তৈরি হয়:--
মুনবো (Moonbow) সৃষ্টির মূল বিজ্ঞান দিন আর রাতের রেইনবোর মতোই। পার্থক্য শুধু আলোর উৎসে—দিনে সূর্যের আলো, রাতে চাঁদের আলো।- যখন চাঁদের আলো বায়ুমণ্ডলে ভাসমান জলের কণার মধ্যে প্রবেশ করে, তখন সেই আলো প্রতিসরণ (Refraction), প্রতিফলন (Reflection), এবং বিচ্ছুরণ (Dispersion)-এর মাধ্যমে ছয়টি প্রধান রংয়ের এক অর্ধবৃত্তাকার বর্ণালী তৈরি করে।জলকণার ভেতরে চাঁদের আলো প্রবেশ করে বাঁক নেয় (প্রতিসরিত হয়), কণার পেছন দিকের পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত হয় এবং আবার ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক কণায় একইভাবে আলো ব্যতিচার বা বিচ্ছুরণ হয়ে চোখে পড়ে রংধনু।
মুনবো এত বিরল কেন:--
চাঁদের আলো সূর্যের আলোর তুলনায় বহুগুণ কম উজ্জ্বল; চাঁদ আসলে সূর্যের আলোই প্রতিফলিত করে।- একটি উজ্জ্বল মুনবোর জন্য পূর্ণিমার রাত, পরিষ্কার ও খুব অন্ধকার আকাশ, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টিজল বা কুয়াশা থাকতে হয়। এছাড়া চাঁদকে চোখের বিপরীত দিকে রেখে দেখতে হয় মুনবো এই অনেকগুলো নির্দিষ্ট শর্ত একসাথে না মিললে মুনবো দেখার সুযোগ হয় না, তাই এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।চাঁদের আলো এতটাই দুর্বল যে, মানব চোখের 'কন' নামক রং-বোধকারী কোষগুলো তা সহজে শনাক্ত করতে পারে না। ফলে বেশিরভাগ সময় চাঁদের রংধনু বা মুনবো শুধুমাত্র সাদা বা হালকা গ্রে রঙের অর্ধবৃত্তের মতোই মনে হয় । বিশেষ ক্যামেরার লম্বা এক্সপোজার ফটোগ্রাফিতে এই মুনবোর আসল রংগুলো ধরা পড়ে। এতে বোঝা যায়, বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে মুনবো আসলে রঙিন, কিন্তু স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তা ধরা পড়ে না ।- যেসব স্থানে প্রচুর কুয়াশা, ঝর্ণা বা স্প্রে পাওয়া যায় (যেমন: নাইয়াগ্রা ফলস, ভিক্টোরিয়া ফলস, আমেরিকা ও হাওয়াইয়ের কিছু অঞ্চল)—সেখানে মুনবো দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে ।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে:--
মুনবো প্রমাণ করে চাঁদের আলো, জলকণা ও বায়ুমণ্ডলের পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে একসাথে কাজ করে।এটি পুরোটাই আলোর ভৌতবিজ্ঞানের বিষয়—প্রতিসরণ, প্রতিফলন ও বিচ্ছুরণ হতেই জন্ম নেয় এক অপূর্ব রাতের রংধনু।
বিজ্ঞানীদের মতে, সঠিক সময়ে, সঠিক পরিবেশে থাকলে রাতের আকাশেও চাঁদের আলোয় বিজ্ঞানসম্মত ও সৌন্দর্যময় রংধনু—মুনবো—দেখা যায়।
দৈএনকে/জে .আ