হার্ট অ্যাটাকের আগাম সতর্কবার্তা দিচ্ছে এআই

বুকে হঠাৎ চিন-চিন করা ব্যথা অনেকেই গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভাবেন। কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন ব্যথা এলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো জরুরি।
কিন্তু হার্টের সমস্যা হয়তো এমন ব্যথার আগে থেকেই ইঙ্গিত দিতে পারে। আর এজন্য আপনাকে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই, না লাগবে ইসিজি মেশিনের মতো জটিল যন্ত্র।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় হৃদযন্ত্রের সতর্কতা
আজকাল কিছু স্মার্টওয়াচ, স্মার্টফোন বা ডিজিটাল স্টেথোস্কোপে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা পরিমাপ করা যায়। এ যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে আগেভাগেই জানা সম্ভব যে হৃদযন্ত্রে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না।
স্মার্টওয়াচের পেছনে থাকা সেন্সর, অথবা ফোনের ফ্ল্যাশ লাইটের ওপরে আঙ্গুল রাখলেই হার্টবিট মাপা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এ ডেটা বিশ্লেষণ করে সতর্কবার্তা পাঠায়। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অপরিহার্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু হার্ট মনিটর বা ইসিজি বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধ নয়। রোবোটিক সার্জারি, হার্টের ছন্দপতন শনাক্তকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করাতেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এ প্রযুক্তির খরচ এখনও অনেকের জন্যই উচ্চ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এআই নিয়ে সারা বিশ্বে যেমন গবেষণা চলছে, তেমনই কাজ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতেও। এ পাইলট প্রকল্পে দেখা গেছে, স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করে ছাত্রছাত্রীদের হার্টের স্বাস্থ্য পরিমাপ করা সম্ভব। এ তথ্য এআই বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
ফলে প্রাথমিক সতর্কতার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এমন রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ১৮% কমানো সম্ভব হতে পারে। যদিও এ তথ্য এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।
স্বাভাবিক ব্যবহারে সহজ এবং সহায়ক
স্মার্টওয়াচ বা ফোন অ্যাপ ব্যবহার করলেই প্রাথমিক সতর্কতা পাওয়া যায়, কিন্তু চিকিৎসকের বিকল্প নয়। এটি শুধু সহায়ক, যাতে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া যায়। ভবিষ্যতে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের এআই যন্ত্র আরও কার্যকরী হয়ে উঠবে।